• মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোরের সংগীতজীবনের অজানা গল্প

বাংলাদেশের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোরের সংগীতজীবনের অজানা গল্প

মোরনিউজ ডেস্ক
মোরনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৬ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এন্ড্রু কিশোর ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। শক্তিশালী ও আবেগঘন কণ্ঠের কারণে তিনি শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে তার অসামান্য অবদানের জন্য তাকে অনেক সময় ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে অভিহিত করা হয়। তবে তার পরিচয়ের সবচেয়ে বড় জায়গা ছিল শ্রোতাদের ভালোবাসা।

 

এন্ড্রু কিশোরের জন্ম ও শৈশব

এন্ড্রু কিশোরের পুরো নাম ছিল এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। তিনি ৪ নভেম্বর ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকেই তিনি সংগীতের তালিম নেওয়া শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই গান শেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সংগীতের সঙ্গে তার পরিচয় তৈরি হয়।

পরবর্তীতে তিনি নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের চর্চা করেন।

 

সংগীতের হাতেখড়ি ও রাজশাহী বেতার

এন্ড্রু কিশোরের সংগীতজীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ছোটবেলাতেই।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি রাজশাহী বেতারে নজরুল, রবীন্দ্র, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

বেতারে গান করার অভিজ্ঞতা তার কণ্ঠ ও গায়কীকে আরও পরিণত করে। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গানে প্রবেশের ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

চলচ্চিত্রের গানে অভিষেক

এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রের গানে অভিষেক হয় ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।

এই চলচ্চিত্রে তিনি ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটিতে কণ্ঠ দেন। এটিই ছিল তার চলচ্চিত্রে প্রথম নেপথ্য গান।

তবে প্রথম গান করার পরপরই তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হয়ে যাননি। ধীরে ধীরে নিজের কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য এবং গায়কীর মাধ্যমে তিনি জায়গা তৈরি করতে থাকেন।

 

‘প্রতিজ্ঞা’ ও ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়

১৯৭৯ সালে ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি তার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এরপর চলচ্চিত্রের গানে তার উপস্থিতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে তিনি অন্যতম প্রধান পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

 

‘বড় ভালো লোক ছিল’ ও প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

এন্ড্রু কিশোরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলোর একটি হলো ১৯৮২ সালের ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্র।

এই ছবিতে তার গাওয়া ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

গানটির জন্য তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পুরস্কৃত হন।

এই পুরস্কারের পর তার ক্যারিয়ারে নতুন গতি আসে এবং তিনি চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম প্রধান কণ্ঠ হয়ে ওঠেন।

 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে অনন্য রেকর্ড

এন্ড্রু কিশোর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

তিনি যেসব চলচ্চিত্রের গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান, সেগুলো হলো:

  • বড় ভালো লোক ছিল — ১৯৮২
  • সারেন্ডার — ১৯৮৭
  • ক্ষতিপূরণ — ১৯৮৯
  • পদ্মা মেঘনা যমুনা — ১৯৯১
  • কবুল — ১৯৯৬
  • আজ গায়ে হলুদ — ২০০০
  • সাজঘর — ২০০৭
  • কি যাদু করিলা — ২০০৮

চলচ্চিত্রের গানে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর একটি।

 

এন্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় গান

এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে অসংখ্য গান জনপ্রিয় হয়েছে। তার কিছু বহুল পরিচিত গানের মধ্যে রয়েছে:

  • হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস
  • জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প
  • ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে
  • ভালোবেসে গেলাম শুধু
  • আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি
  • আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন
  • আমার বুকের মধ্যখানে
  • সবাই তো ভালোবাসা চায়
  • ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা
  • আমি চিরকাল প্রেমেরও কাঙাল
  • বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে

এসব গান এখনো বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় এবং তার কণ্ঠের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

 

‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’

এন্ড্রু কিশোরের অন্যতম স্মরণীয় গান ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’

১৯৮৮ সালের ‘ভেজা চোখ’ চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহৃত হয়। গানটির কথা লিখেছিলেন মনিরুজ্জামান মনির এবং সুর করেছিলেন আলম খান।

এ গানটি এন্ড্রু কিশোরের আবেগঘন গায়কীর অন্যতম পরিচিত উদাহরণ হয়ে আছে।

 

‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’

এন্ড্রু কিশোরের আরেকটি বিখ্যাত গান ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’

১৯৮৪ সালের ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে তিনি এই গানসহ একাধিক গান গেয়েছিলেন।

চলচ্চিত্রের গানে তার আবেগপূর্ণ পরিবেশন ও শক্তিশালী কণ্ঠ এই সময়েই আরও বেশি পরিচিত হয়ে ওঠে।

 

বিভিন্ন গীতিকার ও সুরকারের সঙ্গে কাজ

এন্ড্রু কিশোর বাংলাদেশের বহু খ্যাতিমান গীতিকার ও সুরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন।

আলম খান, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, সৈয়দ শামসুল হক, মনিরুজ্জামান মনিরসহ অনেক গুণী মানুষের লেখা ও সুরে তিনি গান গেয়েছেন।

এ ছাড়া উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরকার রাহুল দেববর্মন (আর. ডি. বর্মন)-এর সঙ্গেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

 

এন্ড্রু কিশোরের গানের বৈশিষ্ট্য

এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার শক্তিশালী অথচ আবেগপূর্ণ উপস্থাপন।

প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা কিংবা সামাজিক বাস্তবতা—বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি তিনি কণ্ঠে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন।

তার গায়কীর মধ্যে ছিল:

  • শক্তিশালী কণ্ঠ
  • আবেগপূর্ণ পরিবেশন
  • স্পষ্ট উচ্চারণ
  • নাটকীয়তার সঙ্গে মানানসই গায়কী
  • রোমান্টিক গানে সাবলীলতা
  • বিষাদ ও আবেগ প্রকাশের অসাধারণ ক্ষমতা

এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাকে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গানে বিশেষভাবে সফল করে তোলে।

 

বাচসাস পুরস্কার

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি এন্ড্রু কিশোর বাচসাস পুরস্কারও পাঁচবার অর্জন করেন।

তার পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:

  • প্রিন্সেস টিনা খান — ১৯৮৪
  • স্বামী-স্ত্রী — ১৯৮৭
  • প্রেমের তাজমহল — ২০০১
  • মনে প্রাণে আছ তুমি — ২০০৮
  • গোলাপী এখন বিলাতে — ২০১০

এসব পুরস্কার তার চলচ্চিত্রের গানে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার

এন্ড্রু কিশোর মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারেও সাফল্য অর্জন করেন।

তার সংগীতজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি সেরা পুরুষ শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

বিভিন্ন পুরস্কারের পাশাপাশি শ্রোতাদের ভালোবাসাই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

 

ব্যক্তিজীবন ও পরিবার

এন্ড্রু কিশোরের স্ত্রী ছিলেন লিপিকা এন্ড্রু ইতি

তাদের দুই সন্তান—কন্যা মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা এবং ছেলে জয় এন্ড্রু সপ্তক

পরিবারের সদস্যরা পরবর্তীতে দেশের বাইরে বসবাস করেছেন।

 

শেষ জীবনে অসুস্থতা

জীবনের শেষ পর্যায়ে এন্ড্রু কিশোর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যান। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

অসুস্থতার সময়ও তার ভক্ত ও সহকর্মীরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা ও সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

 

এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যু

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬ জুলাই ২০২০ সালে রাজশাহীতে ৬৪ বছর বয়সে এন্ড্রু কিশোর মৃত্যুবরণ করেন।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংগীত ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে।

পরদিন ১৫ জুলাই ২০২০ রাজশাহীর শ্রীরামপুর এলাকায় বাংলাদেশ চার্চের খ্রিস্টান কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

 

মৃত্যুর পরও যে কণ্ঠ অমর

এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর পরও তার গান থেমে যায়নি।

তার গাওয়া গানগুলো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, টেলিভিশন, রেডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

বিশেষ করে তার জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের গানগুলো এখনো শ্রোতাদের নস্টালজিয়ার অংশ।

 

এন্ড্রু কিশোরকে কেন ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ বলা হয়?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে এন্ড্রু কিশোরের দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারই তাকে এই মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রজন্মের নায়ক-নায়িকার জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন।

তার কণ্ঠে গাওয়া গান শুধু চলচ্চিত্রের গল্পকে এগিয়ে নেয়নি; অনেক ক্ষেত্রে গান নিজেই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তার অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে।

 

এন্ড্রু কিশোরের সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন

তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে:

৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ৫ বার বাচসাস পুরস্কার এবং অসংখ্য অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মাননা।

তবে পুরস্কারের বাইরেও তার সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া।

 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে এন্ড্রু কিশোরের অবদান

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে এন্ড্রু কিশোরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি এমন একটি সময়ে চলচ্চিত্রের গানে আধিপত্য বিস্তার করেন, যখন সিনেমার গান ছিল বাংলাদেশের মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

তার কণ্ঠে গাওয়া গান একসময় ক্যাসেট, রেডিও, টেলিভিশন ও সিনেমা হল—সবখানেই শোনা যেত।

 

এন্ড্রু কিশোরের উত্তরাধিকার

এন্ড্রু কিশোর শুধু একজন সফল গায়ক ছিলেন না; তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানের একটি যুগের প্রতিনিধিত্ব করেন।

তার গান শুনে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের কাছে তিনি স্মৃতি, আবেগ ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন।

নতুন শিল্পীরা প্রযুক্তির সুবিধা পেলেও এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য ও আবেগপূর্ণ গায়কী আজও অনুকরণীয়।

 

এন্ড্রু কিশোরের জীবনী থেকে যা জানা যায়

এন্ড্রু কিশোরের জীবন ছিল প্রতিভা, পরিশ্রম ও দীর্ঘ অধ্যবসায়ের গল্প।

ছয় বছর বয়সে সংগীতের তালিম নেওয়া থেকে শুরু করে রাজশাহী বেতারে গান, এরপর চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কণ্ঠশিল্পী হয়ে ওঠা—তার পথচলা ছিল দীর্ঘ।

তার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য শুধু প্রতিভা দিয়ে নয়, ধারাবাহিক পরিশ্রম ও নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা দিয়েও তৈরি হয়।

 

উপসংহার

এন্ড্রু কিশোর বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসের এক অমর নাম।

১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্রের গানে অভিষেক থেকে শুরু করে অসংখ্য জনপ্রিয় গান, আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং কয়েক দশকের সফল ক্যারিয়ারের মাধ্যমে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

**‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’**সহ তার অসংখ্য গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

২০২০ সালে তিনি চলে গেলেও তার কণ্ঠ থেমে যায়নি। তার গান বেঁচে আছে মানুষের স্মৃতিতে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এবং পরবর্তী প্রজন্মের শ্রোতাদের হৃদয়ে।

এন্ড্রু কিশোর তাই শুধু একজন গায়ক নন—তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।

বিজ্ঞাপন