ফ্যাটি লিভারে কি ফলের রস খাওয়া ভালো, জেনে নিন


প্রকাশিত: ০৫:৩৭ ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
ফ্যাটি লিভার বর্তমানে একটি খুবই সাধারণ কিন্তু অবহেলিত স্বাস্থ্যসমস্যা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ওবেসিটি ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। এমন অবস্থায় খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—স্বাস্থ্যকর হিসেবে পরিচিত ফলের রস কি ফ্যাটি লিভারের জন্য ভালো, নাকি এতে আরও ক্ষতি হতে পারে? চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানা জরুরি।
ফল থেকে যখন রস তৈরি করা হয়, তখন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—ফাইবার প্রায় পুরোপুরি বাদ পড়ে যায়। অথচ এই ফাইবারই রক্তে শর্করার শোষণ ধীর করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলের রসে মূলত কিছু ভিটামিন, অল্প মিনারেল এবং প্রচুর পরিমাণ ফ্রুক্টোজ বা প্রাকৃতিক শর্করা থেকে যায়। এই ফ্রুক্টোজ সরাসরি লিভারে গিয়ে জমা হয় এবং লিভার এটিকে ফ্যাটে রূপান্তর করে। ফলে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
তাজা ফলের তুলনায় ফলের রসে ফ্রুক্টোজের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে। কারণ একটি গ্লাস রস তৈরি করতে একাধিক ফল ব্যবহার করা হয়, কিন্তু খাওয়ার সময় শরীর তৃপ্তির অনুভূতি পায় না। এতে করে খুব দ্রুত এবং বেশি পরিমাণ শর্করা শরীরে প্রবেশ করে। নিয়মিত ফলের রস পান করলে এই অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারে জমে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, মাঝেমধ্যে ফলের রস খাওয়া খুব একটা ক্ষতিকর নয়, তবে তা অবশ্যই সীমিত পরিমাণে এবং কোনো প্রকার চিনি ছাড়াই হতে হবে। বিশেষ করে যাদের শরীর খুব দুর্বল, অসুস্থতা থেকে সেরে উঠছেন বা পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভব করেন—তারা বিশেষ পরিস্থিতিতে এক গ্লাস তাজা ফলের রস খেতে পারেন। তবে অভ্যাস হিসেবে প্রতিদিন ফলের রস খাওয়া ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য মোটেই নিরাপদ নয়।
এর বিপরীতে, ফল কামড়ে খাওয়া ফ্যাটি লিভারের জন্য অনেক বেশি উপকারী। ফলের প্রাকৃতিক ফাইবার শর্করা শোষণের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে সুগার লেভেল হঠাৎ বেড়ে যায় না। পাশাপাশি ফল চিবিয়ে খেলে পেট ভরে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে—যা ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও তাজা ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত সঠিক পরিমাণে তাজা ফল খেলে ধীরে ধীরে লিভারের জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট কমানো সম্ভব হয়। তাই ফ্যাটি লিভার থাকলে ফলের রসের দিকে ঝোঁক না বাড়িয়ে বরং মৌসুমি তাজা ফল কামড়ে খাওয়াকেই অভ্যাসে পরিণত করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী সিদ্ধান্ত।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - লাইফ স্টাইল
- হাজারবার প্রার্থনা করেছি যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়: শ্রুতি হাসান
- ‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’: শফিকুর রহমান
- পাঁচ ভেন্যুতে হবে এনসিএল ‘সেকেন্ড ইলেভেন’ চ্যাম্পিয়নশিপ
- ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: গালিবাফ
- অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে ৪ জন গ্রেপ্তার, অপরাধ স্বীকারের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ফুলবাড়ীতে ২৮ আঙুল নিয়ে কন্যাশিশুর জন্ম
- মোদির জন্মদিনে মুম্বাইয়ের ২০ স্কুল সংস্কারের উদ্যোগ আলিয়া-রণবীরের
- লং মার্চকে অযৌক্তিক বলেও সহযোগিতার আশ্বাস রাশেদ খানের
- সৌদি রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণ, জারি হয়েছিল বিমান হামলার সতর্কতা
- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানে নজর রিয়াল-বার্সার
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- অকালে হারানো বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ মহানায়ক সালমান শাহ
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- ব্রাজিলের সঙ্গে খেললেই বদলাবে না বাংলাদেশের ফুটবল, বললেন আমিনুল
- শরীফুলের বোলিংয়ে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক
- দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
- বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- এআই জগতের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করল টাইম
