• বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে ডিবি পরিচয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ, জিয়া প্রজন্ম দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

সাভারে ডিবি পরিচয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ, জিয়া প্রজন্ম দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি
আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৩৯ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি বাসায় ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে জিয়া প্রজন্ম দলের এক নেতা ও ছাত্রদলের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে চারটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন জিয়া প্রজন্ম দল সাভার পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল (২৩) এবং ছাত্রদল কর্মী মো. রাসেল ওরফে রোহান (২২)। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন আব্দুল্লাহ ওরফে আবুল্লাহ (২২), মো. হিরা (২৪) ও নাজমুল (২০)। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের কাজী মোকমাপাড়া এলাকায় অসুস্থ এক বন্ধুকে দেখতে তাঁর বাসায় যান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাব্বি খান। রাত সোয়া ৯টার দিকে রাসেল ওরফে রোহান সেখানে গিয়ে দরজায় নক করেন। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বাসায় ঢুকে তাঁরা বিভিন্ন জিনিসপত্র তল্লাশি করেন এবং রাব্বি ও তাঁর বন্ধুদের ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, এ সময় আশরাফুল একটি সুইচ গিয়ার চাকু দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে রাব্বি ও তাঁর বন্ধু রাকিব মিয়ার কাছ থেকে চারটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই স্ট্যাম্পে তাঁদের কাছে আড়াই লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

রাব্বিকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁর চাচাতো ভাই জাকির ও বন্ধু জুনায়েদ সেখানে গেলে তাঁদের কাছেও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এটিএম বুথ থেকে তোলা ২০ হাজার টাকা এবং সঙ্গে থাকা আরও ৯ হাজার টাকাসহ মোট ২৯ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাব্বির বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা, তাঁর বন্ধু সঞ্জয়ের নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০০ টাকা এবং সঞ্জয়ের প্রবাসী আত্মীয়ের পাঠানো একটি মোবাইল ফোনসহ আরও একটি ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে রাব্বি খান পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয় এবং অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার তদন্ত এখনো চলমান।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন