• রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ১০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ১ হাজার

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ১ হাজার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৮ ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছেন লাখো মানুষ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভ ঘিরে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে প্যারিসে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। সংগঠনটির হিসাবে, শুধু প্যারিসেই জমায়েত হয়েছিলেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। মার্সেইসহ লিঁও, নিস, তুলুজ ও বোর্দোর মতো শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদে পরে শ্রমিক, পেশাজীবী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও যোগ দেন। শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলন জোরালো হয়। ইয়েলো ভেস্টস আন্দোলনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও এতে অংশ নেয়। আগের সপ্তাহের বিক্ষোভে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় এবার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিলের পর কয়েকটি দলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর অন্তত ২৪টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। ল্যুভর ও ওরসে জাদুঘরসহ কয়েকটি প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দোকানপাট ও বিলাসপণ্যের বিপণিবিতানগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহের তুলনায় এবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা কম ঘটেছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ৩৮৫ জনকে আটক করা হলেও এবার গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক হাজারে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের বাইরে ইতালির নেপলস, রোম ও মিলান এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলসেও বিক্ষোভের প্রস্তুতি ও কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। ফ্রান্সে আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৫ নভেম্বর দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ।

বিজ্ঞাপন