• সোমবার , ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ মাসে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নির্যাতনের শিকার ১০৯ শিশু

৯ মাসে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নির্যাতনের শিকার ১০৯ শিশু

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৫ ২৬ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৭২টি ঘটনায় অন্তত ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্স (জেএমবিএফ)। একই সময়ে সারা দেশে ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষা, অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা।

রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনাও শিশু সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চলতি বছরের মে মাসে ওই মাদ্রাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার মা মামলা করেন। পরে ওই প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেএমবিএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সারা দেশে ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অন্তত ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ভুক্তভোগী ১৭১ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জন ধর্ষণের শিকার এবং ১০ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর বড় অংশ ঘটেছে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।

প্রমাণ সংগ্রহে আইনি জটিলতা

শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করতে ফরেনসিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছেলে শিশুদের নির্যাতনের ঘটনায় শারীরিক পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় পৃথক মানসম্মত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) না থাকায় চিকিৎসা ও ডিএনএ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচারপ্রক্রিয়া ও অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সামাজিক সংকোচে আড়ালে থেকে যাচ্ছে নির্যাতন

লোকলজ্জা ও সামাজিক সংকোচের কারণে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। ফলে অনেক ভুক্তভোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম শিশুদের সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের জন্য পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর জবাবদিহি ও শিশু সুরক্ষানীতি বাস্তবায়ন জরুরি। অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন