• বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ৬ মাসে ‘বিস্ময়কর’ গরমের প্রভাবে ৪ লাখ ৫১ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা

আগামী ৬ মাসে ‘বিস্ময়কর’ গরমের প্রভাবে ৪ লাখ ৫১ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৯ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জলবায়ু গবেষকরা। তবে এটি নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা নয়; তাপমাত্রার পূর্বাভাস ও অতীতের তাপজনিত মৃত্যুর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি সম্ভাব্য হিসাব।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষকদের তৈরি এই পূর্বাভাসে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে থাকা তাপমাত্রার সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আগের তুলনায় বেশি। তার ওপর শক্তিশালী এল নিনোর অতিরিক্ত উষ্ণতা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

গবেষকদের হিসাবে আগামী ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকতে পারে নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সুদান, ভারত ও ব্রাজিল। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রায় ৩ হাজার ৫০০ অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ভারতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। একটি পৃথক প্রতিবেদনে গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশটিতে আগামী ছয় মাসে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এর বড় একটি অংশ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই এল নিনো শুধু অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকি তৈরি করছে না; এর সঙ্গে খরা, দাবানল, পানির সংকট এবং বন্যার মতো অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা। তাদের পরামর্শের মধ্যে রয়েছে উন্নত তাপমাত্রা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, মানুষের আশ্রয়ের জন্য কুলিং সেন্টার, অতিরিক্ত গরমের সময়ে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে বাড়তি জনবল এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা।

গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে মাসভিত্তিক তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সালের গড় তাপজনিত মৃত্যুর তথ্যের সঙ্গে আগামী মাসগুলোর তাপমাত্রার পূর্বাভাস মিলিয়ে সম্ভাব্য অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জলবায়ু বাস্তবতার একটি ইঙ্গিতও হতে পারে। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী দুই দশকে যে ধরনের চরম তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে, বর্তমান এল নিনো সেই পরিস্থিতির কিছুটা আগাম চিত্র দেখাচ্ছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, এই পূর্বাভাসকে শুধু আশঙ্কার পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না। সঠিক সময়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত তাপ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নগর অবকাঠামো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

এল নিনোর প্রভাব ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পরও তাপজনিত মৃত্যুর ওপর পড়তে পারে বলে গবেষকদের ধারণা। কিছু অঞ্চলে এই প্রভাব ২০২৭ সালের জুন বা জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

বিজ্ঞাপন