• বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করতে গিয়ে জেল খাটছেন ভুক্তভোগীর বাবা! থানায় উল্টো গ্রেপ্তার তিনজন

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করতে গিয়ে জেল খাটছেন ভুক্তভোগীর বাবা! থানায় উল্টো গ্রেপ্তার তিনজন

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৫৭ ২২ অক্টোবর ২০২৫

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের দোতলার বারান্দায় বিছানায় কাঁদছে এক শিশু। পাশে বসে অবিরাম কান্না তার মায়ের। কারণ— ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ জানাতে থানায় গেলে উল্টো ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা, চাচা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আশিকুজ্জামান মানিকের বিরুদ্ধে, যিনি বোদা উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সক্রিয় কর্মী।

শিশুটির মা জানান, সোমবার দুপুরে প্রতিবেশী মানিকের বাড়িতে তার মেয়েদের সঙ্গে টেলিভিশন দেখতে গিয়েছিল তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফেরার সময় বাড়ির চিপাগলিতে কেউ না থাকার সুযোগে মানিক মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটি কোনোমতে ছুটে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি জানালে পরিবার থানা পুলিশকে খবর দেয়।

তিনি আরও জানান,
“আমরা থানায় অভিযোগ করতে গেলে মানিকের পক্ষের বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাদের অভিযোগের কাগজ ছিঁড়ে ফেলে। এরপর পুলিশ উল্টো আমার স্বামী, ছেলে আর দেবরকে ধরে নিয়ে যায়। এখন তারা কারাগারে, আমি হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে বসে আছি।”

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আশিকুজ্জামান মানিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আশিকুজ্জামান মানিক বলেন,
“পূর্ব শত্রুতার জেরে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তারা আমার ওপর হামলা করে গুরুতর জখম করেছে। আমার চোখ নষ্ট হওয়ার পথে। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এরপর উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।”

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন,
“পূর্ব শত্রুতার জেরে মানিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ৯৯৯ কল পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে মানিক একটি মামলা করে। পরদিন শিশুটির পরিবার ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করলে সেটিও নেওয়া হয়। যেহেতু তার বাবা, ভাই ও চাচা অপর মামলার আসামি ছিলেন, তাই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের কাগজ ছেঁড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পর ভুক্তভোগী পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কারাগারে পাঠানো কতটা ন্যায়সঙ্গত!

বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে, আর তার মা ন্যায়বিচারের আশায় কাঁদছেন হাসপাতালের বারান্দায়।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/