• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চবি আলাওল হল প্রাধ্যক্ষের পরামর্শে বিতর্ক, সম্পাদক কিনলেন ৫০ প্লেট

চবি আলাওল হল প্রাধ্যক্ষের পরামর্শে বিতর্ক, সম্পাদক কিনলেন ৫০ প্লেট

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হল সংসদের নবনির্বাচিত রিডিংরুম, ডাইনিং ও লাইব্রেরি সম্পাদককে নিজের অর্থে নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করতে বলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ওই সম্পাদক নিজ খরচে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০টি প্লেট কিনে দিয়েছেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষ হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক।
ভুক্তভোগী হল সম্পাদক শিহাবুর রহমান মোর নিউজকে জানান, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তিনি প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যান এবং লাইব্রেরির চেয়ারের বিষয়ে জানতে চান।

শিহাবুর বলেন,
“আমি স্যারকে বলেছিলাম— নির্বাচনের আগে লাইব্রেরির জন্য কিছু চেয়ার এসেছিল, সেগুলো এখন নেই। তখন স্যার আমাকে বলেন, ‘তুমি অফিসে জিজ্ঞেস করো না কেন? এত প্রশ্ন করছো কেন?’ আমি পরিচয় দেওয়ার পরও উনি রেগে গিয়ে বলেন, ‘তোমাদের ইশতেহার আমরা পূরণ করব না, নিজের টাকায় করো।’”

তিনি আরও বলেন,
“স্যারের ওই মন্তব্যে আমি অবাক হয়েছি। তাই প্রতিবাদ জানাতে নিজের টাকায় ৫০টি প্লেট কিনে ডাইনিংয়ের জন্য দিয়েছি। আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এনামুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“অন্য সব হলের তুলনায় আলাওল হলে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কাজ হয়েছে— প্রায় ৪০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করেছি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এসব ইতিবাচক দিক তুলে ধরে না। শিহাবুরের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে, তবে আমি জানতাম না সে কোন পদে নির্বাচিত হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন,
“চেয়ারগুলোর মানগত সমস্যা ছিল, তাই ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটিও ছিল। আমি নিয়মিত হলে আসি, তবে সবাই সবসময় উপস্থিত নাও থাকতে পারে।”

অন্যদিকে, আলাওল হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রাধ্যক্ষ মাসে একবার বা দুই মাসে একবার হলে আসেন। হলে পানি, ওয়াইফাইসহ নানা সমস্যায় শিক্ষার্থীরা ভুগলেও তিনি তেমন খোঁজ রাখেন না।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, নির্বাচনের পর তারা আশা করেছিলেন, হল প্রশাসন ও সংসদ একসঙ্গে কাজ করবে। কিন্তু প্রাধ্যক্ষের এমন আচরণে তারা হতাশ।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/