• মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবিতে ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, বন্ধ সব নির্মাণকাজ!

জাবিতে ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, বন্ধ সব নির্মাণকাজ!

আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি
আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:১৫ ২ নভেম্বর ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন দশতলা বিশিষ্ট চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ কোয়ার্টারের নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে রাকিব (২৬) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক মাহফুজ আহমেদ। তিনি নিহত রাকিবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকরা দেখতে পান, ভবনের ফিনিশিং কাজ চলমান ছিল। সাইটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে কাজ শেষে রাকিব প্রয়োজনীয় বালু ও সিমেন্টের বর্জ্য বস্তায় ভরে জানালা দিয়ে নিচে ফেলছিলেন। এ সময় অসাবধানবশত তিনি নিচে পড়ে যান।

তাৎক্ষণিকভাবে সাব ঠিকাদারের ফোরম্যান রাসেল মিয়া আহত রাকিবকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের ইসলামিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে এক জরুরি প্রশাসনিক সভায় ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতাধীন সকল নির্মাণকাজ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা শ্রম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি আছে কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তারা আরও জানান, সমস্ত সাইটে নিরাপত্তা নেট (সেফটি নেট) ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ভবিষ্যতে কোনো নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে না।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে নগদ দুই লাখ টাকা প্রদান করেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, “এটি একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা। আমরা নিহত রাকিবের পরিবারের পাশে আছি এবং সর্বাতক সহযোগিতা করব। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”

সাইট ম্যানেজার বলেন, “আমাদের এখানে হেলমেট, সেফটি বেল্টসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শ্রমিকরা অনেক সময় এগুলো ব্যবহার করতে চায় না। এটাই বাংলাদেশের নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা।”

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/