অশ্বিনী কুমার ব্রত ও “ব্রতের ভাত” নেহাল আহমেদ


প্রকাশিত: ১১:১০ ১৯ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের এমন এক অঞ্চল আছে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক রীতি ও মানবিকতা একসাথে মিশে এক অনন্য সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। সেই সংস্কৃতির অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো “অশ্বিনী কুমার ব্রত”, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নারীদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।
অশ্বিনী কুমারদ্বয় হিন্দু পুরাণে দেব চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তাঁরা রোগব্যাধি নাশ এবং দীর্ঘায়ুর আশীর্বাদ দেন বলে বিশ্বাস করা হয়। অশ্বিনী কুমার বা অশ্বিনী দেবতা হলেন দেবযমজ চিকিৎসক, সূর্যদেবের সন্তান। ঋগ্বেদের সময় থেকেই তাঁরা পূজিত হয়ে আসছেন। দেবতার চিকিৎসক হিসেবে তাঁদের গুরুত্বের কারণে এই ব্রতের উৎপত্তি। নারীরা এই ব্রত পালন করেন পরিবারের স্বাস্থ্য, স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সন্তানের মঙ্গল কামনায়। এটি কেবল একটি পূজা নয়— বরং এক আত্মিক সাধনা, যা গৃহস্থ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী ও নোয়াখালী অঞ্চলে এই ব্রত পালনের ঐতিহ্য আজও বহমান। শরৎ বা হেমন্তের কোনো শুভ তিথিতে নারীরা নিরামিষ আহার করে, প্রদীপ জ্বেলে দেবতার উদ্দেশে প্রার্থনা করেন। তাঁদের ব্রতের লক্ষ্য হলো রোগমুক্ত জীবন ও সংসারের শান্তি।
এই ব্রতের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো “ব্রতের ভাত”। সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি এই ভাতে থাকে চাল, ডাল, শাক, আলু ভাজি, নারকেল, কলা, কখনও কখনও মিষ্টান্ন বা পিঠা। ব্রত শেষে এই ভাত দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা হয়। এরপর এটি প্রসাদ হিসেবে পরিবার, আত্মীয় ও প্রতিবেশীর মাঝে ভাগ করা হয়। এই “ভাগাভাগি” একটি সামাজিক ও মানবিক শিক্ষা দেয়—খাবার, মঙ্গল এবং আশীর্বাদ যখন ছড়িয়ে পড়ে সমাজে। অনেক সময় মুসলমান বা ভিন্ন ধর্মের মানুষও এই প্রসাদ পান, যা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সহাবস্থানের নিদর্শন।
আজও এই ব্রতের আবহ জীবন্ত। কখনও এটি খুব নিঃশব্দে পালিত হয়, কখনও খুব আন্তরিকভাবে। একজন গৃহ সহকারী, পম্পি দাস, উদাহরণস্বরূপ, নিজের কর্মস্থলে “ব্রতের ভাত” নিয়ে আসেন—জেনে যে সেখানে ব্রত পালন হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, শুভ ব্রতের ভাত ভাগ করলে ঘরে মঙ্গল আসে। এই ছোট কাজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সমাজের এক গভীর মূল্যবোধ—ভক্তি, আন্তরিকতা ও মানবিক বন্ধন।
অশ্বিনী কুমার ব্রত কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি এক লোকঐতিহ্যের প্রতীক, যা সময়ের পরিক্রমায় চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে উজ্জ্বল করেছে। এই ব্রত শেখায়—মঙ্গল একা অর্জিত হয় না, বরং ভাগ করে নিতে হয় সবার সঙ্গে। “ব্রতের ভাত” তাই কেবল ভাত নয়, বরং একটি ঐতিহ্যের স্বাদ, যেখানে বিশ্বাস ও ভালোবাসা এক হয়ে যায়।
সর্বোচ্চ পঠিত - সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- আশুলিয়ায় কোটি টাকার পুকুর খনন প্রকল্পে মাটি বিক্রির অভিযোগ
- অফিসার পদে জনবল নেবে এসিআই, আবেদন চলবে ২৬ জুন পর্যন্ত
- ৮১ বছর বয়সে প্রেম, প্রেমিকার ছেলের হাতে খুন হলেন অভিনেতা জেমস
- ফ্রিল্যান্সিং আয়ে উৎসে কর বন্ধ, আগের কাটা অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত
- ফুটবলে নিজের লিগ্যাসি তৈরি করেছি, ইতিহাসে নাম লেখা হয়ে গেছে: নেইমার
- সরকারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর দুঃখপ্রকাশ করলেও সমালোচনার মুখে জামায়াত নেতা
- ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র
- সীমান্তে ২৪ ঘণ্টায় ৮টি পুশইন প্রতিহত করেছে বিজিবি
- ফরিদপুরে আম খাওয়ানোর কথা বলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ
- বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ: ৭% সুদে ২০০ কোটি পর্যন্ত ঋণ
- আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে খোরশেদ আলম, দিলেন আর্থিক সহায়তা
- সন্তান ও টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী
- ১৫ বছর পর খালাস পেলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী-দিনারসহ ৩৮ জন
- এমপিদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা উচিত
- মা: নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আশ্রয়
- একনেকে অনুমোদন পেল ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প
- ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে গেলেন জামায়াত আমির
- মাদক পাচারের সন্দেহে প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলা, নিহত ২
- সরকারি মেডিকেল কলেজে ৪ শিক্ষার্থীর সিট বাতিল, অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য
- ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশে কঠোর অবস্থান হাইকোর্টের, ৬ মাসে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ

