• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে চবি শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও মশাল মিছিল

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে চবি শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও মশাল মিছিল

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পক্ষে সংহতি ও উত্তরবঙ্গে বৈষম্য” শীর্ষক এই মানববন্ধনের আয়োজন করে রংপুর ডিভিশন স্টুডেন্টস ইউনিটি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (Rangpur Division Students Unity, CU)।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বৃহত্তর রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত বক্তারা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জাতীয় দাবি। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চল অবহেলিত থেকে আসছে। সেচব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে এই অঞ্চলের বঞ্চনা স্পষ্ট। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দেরি হলে কেবল উত্তরবঙ্গ নয়, পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব। তিনি বলেন, “ভারত শুধু বাংলাদেশের শত্রু নয়, ভারত মানবতার শত্রু। ইন্টারিম সরকারকে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সকল চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট চুক্তিসমূহ বহাল রাখতে হবে এবং বাকি সব চুক্তি বাতিল করতে হবে।” তার বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তুমুল করতালিতে সাড়া দেন।

মানববন্ধন শেষে শহীদ মিনার থেকে এক বিক্ষোভ মশাল মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। হাতে জ্বলন্ত মশাল আর কণ্ঠে স্লোগান— “তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন চাই, বৈষম্যের অবসান চাই”—প্রতিধ্বনিত হতে থাকে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে।

আয়োজকরা জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অভ্যন্তরীণ অভিবাসন কমবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিশ্চিত হবে। তারা দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এই আন্দোলনে সংহতি জানানোর আহ্বান জানান।

মানববন্ধনের শেষাংশে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিজ্ঞা করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই দাবি— “তিস্তা বাঁচাও, উত্তরবঙ্গ বাঁচাও, বাংলাদেশ বাঁচাও।”

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/