• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকসুর ভিপি-জিএস শিবিরের, এজিএস ছাত্রদলের

চাকসুর ভিপি-জিএস শিবিরের, এজিএস ছাত্রদলের

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট। অপরদিকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাত পর্যন্ত চলে গণনার কাজ।

ভিপি পদে সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট।

জিএস পদে একই জোটের সাঈদ বিন হাবিব ৮ হাজার ৩১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল সমর্থিত মো. শাফায়েত হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৭২৪ ভোট।

অপরদিকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ১৪ ভোট, যেখানে ছাত্রশিবির সমর্থিত সাজ্জাত হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫ ভোট।

দীর্ঘ সময় পর আয়োজিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উৎসবমুখর। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমায় শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ।

চাকসু নির্বাচনে এবার মোট ১৩টি প্যানেলের ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ২৩২টি পদে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৪১৫ জন এবং ১৪টি হল ও একটি হোস্টেল সংসদের ২০৬টি পদে লড়েছেন ৪৯৩ জন প্রার্থী। নারী প্রার্থী ছিলেন মোট ৪৭ জন।

ভোটারদের ভোট দিতে হয়েছে মোট ৪০টি পদে—২৬টি কেন্দ্রীয় সংসদ ও ১৪টি হল সংসদের জন্য। ভোটগ্রহণ হয়েছে ব্যালট পেপারে এবং গণনা সম্পন্ন হয়েছে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে, যা ভোট গণনার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ফলাফল ঘোষণা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে, আর হল ও হোস্টেল সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা হয় সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন নেয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা দায়িত্ব পালন করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে, আর বিভাগীয় সভাপতিরা ছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। ভোটার শনাক্তকরণের জন্য ছবি-সংযুক্ত ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হয়।

ভোটের দিনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে শাটল ট্রেন শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ বার যাতায়াত করে। পাশাপাশি প্রশাসন ১৫টি বাস সার্ভিস চালু রাখে যাতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাতভর গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশের পর নির্বাচিতদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে।

দীর্ঘ তিন দশক পর আয়োজিত এই চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এখন উৎসবের আবহে ভাসছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন—এই নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/