আসন বণ্টনেই ফাটল? জামায়াতের জোটে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের থাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা


প্রকাশিত: ০৬:৪৫ ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষের জেরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের থাকা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস—দুটো দলই আসন বণ্টনে প্রত্যাশিত ছাড় না পাওয়ায় জোটে থাকা–না থাকার বিষয়টি নতুন করে ভাবছে। যদিও জামায়াত আজ বুধবার বিকেলে ১০টি দলের সঙ্গে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলীয় সূত্র ও সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পুরানা পল্টন থেকে দলটির শীর্ষ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা রামপুরার একটি মাদ্রাসায় জড়ো হন। সারা দেশ থেকেও গাড়িবহর নিয়ে সেখানে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। মাগরিবের নামাজের পর শুরু হয় দলটির শুরা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক। এ বৈঠকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিভিন্ন দিক নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন নেতারা।
ইসলামী আন্দোলন শুরুতে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিল। পরে আলোচনা এগোনোর স্বার্থে ধাপে ধাপে দাবি কমিয়ে আনে দলটি। সর্বশেষ তারা ৫০টির বেশি আসনের দাবি জানালেও জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে রাজি। এই প্রস্তাবকে দলটির বড় একটি অংশ ‘অপমানজনক’ বলে মনে করছে। বৈঠক চলাকালে মাদ্রাসার ভবনের নিচে নেতাকর্মীদের কড়া পাহারা দেখা যায়, যাতে বাইরের কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারে।
সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া বৈঠক মাঝখানে এশার নামাজের বিরতি দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। রাত সোয়া ১২টার দিকেও মাদ্রাসার নিচে নেতাকর্মীদের ছোট ছোট জটলা করে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। অনেক নেতা রাত পৌনে ১২টার পরও গাড়ি নিয়ে বৈঠকে যোগ দেন। শেষ পর্যন্ত রাত একটার দিকে বৈঠক শেষ হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার দেওয়া হয়েছে মজলিসে আমেলার (দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম) ওপর। আজ বুধবার জোহরের নামাজের পর মজলিসে আমেলার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পরই দলটির অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
দলীয় সূত্র বলছে, গণ–অভ্যুত্থানের পর ইসলামী আন্দোলন ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়—অর্থাৎ, সমঝোতাকারী দলগুলো একটি আসনে একজন প্রার্থী দেবে। প্রথমে এই আলোচনায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। পরে ষষ্ঠ দল হিসেবে জামায়াত যুক্ত হয়। এরপর জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিও (বিডিপি) আলোচনায় যোগ দেয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত পরবর্তী সময়ে কিছু সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে আসন সমঝোতার আলোচনা চালানোয় অন্য দলগুলো ক্ষুব্ধ হয়েছে। এসব বৈঠক সম্পর্কে আগেভাগে তাদের কিছুই জানানো হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তুষ্ট। দলটি ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দিতে রাজি। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হবে না, সেখানে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার পক্ষে খেলাফত মজলিস।
ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনার কারণে। ইসলামী আন্দোলনের অনেক নেতা এটিকে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইসলামী আন্দোলনের এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আসন সমঝোতায় থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দল আগে প্রস্তাব দিয়েছিল—শুরুতে আলোচনায় থাকা পাঁচ দল মিলে নির্বাচন করবে এবং বিষয়টি জামায়াতকে জানানো হবে। কিন্তু সেই আলোচনা আর এগোয়নি।
ওই নেতা আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতায় থাকা–না থাকার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলের আমির চরমোনাই পীরের ওপর নির্ভর করছে। তিনি চাইলে সমঝোতা থাকবে, না চাইলে কোনো ফোরামের সুপারিশই কার্যকর হবে না।
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন জানিয়েছেন, আজ মজলিসে আমেলার বৈঠকের পরই দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করা হবে। অন্যদিকে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারাও জানিয়েছেন, জামায়াতের প্রস্তাবে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।
সব মিলিয়ে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এই জোটে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের থাকা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
সর্বোচ্চ পঠিত - রাজনীতি
- নড়াইলে জামিনে মুক্ত হয়েই ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা, আহত ২
- চাকরি দিচ্ছে ওয়ার্ল্ড ভিশন, দ্রুত আবেদন করুন
- নরওয়ের পত্রিকায় মোদিকে ‘সাপুড়ে’ কার্টুন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক
- ফেসবুকে ভাইরাল ‘কী রাগ করলা’ ট্রেন্ডে শাকিব খানের যুক্ত হওয়ায় নতুন উন্মাদনা
- বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নতুন চাপ, সঞ্চালন ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে বড় প্রস্তাব
- যৌতুক মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা কারাগারে
- পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
- ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় অটো চালককে পিটিয়ে হত্যা
- সিদ্ধিরগঞ্জে সন্তান বিক্রির অভিযোগ: বাবাসহ গ্রেপ্তার তিন
- ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় এরশাদের সাবেক স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড
- আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে খোরশেদ আলম, দিলেন আর্থিক সহায়তা
- সাভারে সাংবাদিকের মানবিক উদ্যোগে আশ্রয় পেলেন অজ্ঞাত নারী
- এসএসসি পাশেই পুলিশের এএসআই পদে নিয়োগ
- এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
- দেড় মাসের সন্তান নিয়ে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী
- কোন রক্তের গ্রুপে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি? গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কোড সক্রিয়ের চেষ্টা ট্রাম্পের, যে কারণে পিছু হাঁটেন
- এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি, দল শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা
- রেলের ইঞ্জিন সংকটে রংপুরে তেলের হাহাকার, বিপাকে পাঁচ জেলার জনজীবন
- কাঁঠালের ভেতরে লুকিয়ে ফেনসিডিল পাচার, যশোরে যুবক গ্রেপ্তার




