হাবিব ওয়াহিদ: ‘কৃষ্ণ’ থেকে বাংলা গানে এক নতুন শব্দের যাত্রা

habib-wahid-er-jiboni

প্রকাশিত: ০২:৫৭ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটি গান পরিচিত হতে পারে তার কথা ও সুরের জন্য। কিন্তু সেই গান কেমন শোনাবে—কণ্ঠের পাশে কোন বাদ্যযন্ত্র থাকবে, কোথায় তাল বদলাবে, কতটা জায়গা পাবে নীরবতা—এসব সিদ্ধান্তও শ্রোতার অভিজ্ঞতা বদলে দেয়। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতে হাবিব ওয়াহিদের গুরুত্ব বুঝতে এই জায়গা থেকে শুরু করা যায়। তিনি গায়ক হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর প্রথম বড় সাফল্য এসেছিল সংগীত প্রযোজক হিসেবে। লোকগানের পরিচিত আবেগকে নতুন শব্দবিন্যাসে তরুণ শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়াই হয়ে ওঠে তাঁর কাজের স্বাক্ষর।
হাবিব ওয়াহিদ কে?
হাবিব ওয়াহিদ বাংলাদেশের গায়ক, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও প্রযোজক। তাঁর জন্ম ঢাকায়, ১৫ অক্টোবর ১৯৭৯ সালে। বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ বাংলাদেশের পপসংগীতের পরিচিত শিল্পী। সংগীতের পরিবেশে বেড়ে উঠলেও হাবিব নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন ভিন্ন পথ ধরে: বাংলা লোকগানের সঙ্গে আধুনিক পপ ও ইলেকট্রনিক সংগীতের উপাদান মিলিয়ে। ২০০৩ সালে প্রকাশিত কৃষ্ণ অ্যালবাম তাঁর কর্মজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে নিজের কণ্ঠের গান, অন্য শিল্পীদের জন্য সংগীতায়োজন এবং চলচ্চিত্রের কাজ তাঁকে আরও বিস্তৃত শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে নিয়ে যায়।
হাবিব ওয়াহিদের জীবনী তাই শুধু জনপ্রিয় গানের তালিকা নয়। এটি এমন এক সংগীতকর্মীর গল্প, যিনি গান গাওয়ার পাশাপাশি গান তৈরির প্রক্রিয়াকেও নিজের শিল্পচর্চার কেন্দ্রে রেখেছেন।
সংগীতের ঘরে শৈশব
ফেরদৌস ওয়াহিদের ছেলে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই হাবিব গান ও বাদ্যযন্ত্রের কাছাকাছি ছিলেন। ২০০৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চার-পাঁচ বছর বয়সেই বাবার কিবোর্ডে সুর তোলার চেষ্টা করতেন। পরে একটি সাক্ষাৎকারে বাবার সংগীতচর্চাকে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। পরিবার থেকে পাওয়া এই পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে তাঁর পরবর্তী কাজের ধরন বুঝতে সংগীতের প্রযুক্তিগত দিকটির প্রতিও আগ্রহ দেখতে হয়।
একজন শিল্পী যখন ছোটবেলা থেকে গান শোনেন, তখন সুর তাঁর কাছে স্বাভাবিক ভাষা হয়ে উঠতে পারে। হাবিবের ক্ষেত্রে সেই শোনার অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল শব্দ সাজানোর কৌতূহল। পরবর্তী সময়ে একই গানের মধ্যে লোকজ কণ্ঠ ও আধুনিক তালকে জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্তে এই দুই অভিজ্ঞতার ছাপ পাওয়া যায়—এটি তাঁর কাজ ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা একটি বিশ্লেষণ।
লন্ডনে পড়াশোনা ও নতুন শ্রবণ অভিজ্ঞতা
হাবিব লন্ডনের School of Audio Engineering-এ সংগীত ও অডিও প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে পড়ার সময় তিনি শুধু যন্ত্রপাতি বা রেকর্ডিংয়ের কৌশল শেখেননি; ভিন্ন সংস্কৃতির গান শোনার সুযোগও পেয়েছিলেন। নিজের ভাষ্যে, লন্ডনের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে সিলেটি পরিচিতদের কাছ থেকে বাংলাদেশের লোকগান নতুনভাবে শোনেন। প্রবাসে থাকা মানুষদের মুখে গাওয়া সেই গান তাঁকে আকৃষ্ট করে। এরপর বিভিন্ন সংগীতধারার উপাদান মিলিয়ে কাজ করার ভাবনা আসে।
এখানে হাবিবের সংগীতযাত্রার একটি কম আলোচিত দিক আছে। তিনি লোকগানকে কেবল পুরোনো রেকর্ডের উপাদান হিসেবে পাননি। প্রবাসী মানুষের জীবন্ত গায়কিতে গানগুলো শুনেছেন—যেখানে স্মৃতি, ভাষা ও নিজের জায়গাকে মনে রাখার অনুভূতি একসঙ্গে কাজ করে। তাঁর পরবর্তী ফিউশন বুঝতে এই প্রেক্ষাপটটি সাহায্য করে।
‘কৃষ্ণ’ অ্যালবাম: কণ্ঠে কায়া, সংগীতায়োজনে হাবিব
২০০৩ সালে প্রকাশিত কৃষ্ণ হাবিব ওয়াহিদের প্রথম অ্যালবাম। অনেকেই প্রথম পরিচয়ে এটিকে হাবিবের গাওয়া অ্যালবাম মনে করতে পারেন। বাস্তবে অ্যালবামটির কণ্ঠে ছিলেন কায়া; হাবিব ছিলেন এর সংগীত প্রযোজক ও আয়োজক। লন্ডনে কায়ার সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁদের সহযোগিতায় কাজটি এগোয়। কায়ার লোকগানের উপযোগী কণ্ঠ এবং হাবিবের আধুনিক শব্দবিন্যাস মিলে অ্যালবামটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলে।
কৃষ্ণ নিয়ে আরেকটি তথ্য হাবিব ওয়াহিদের জীবনীকে আলাদা মাত্রা দেয়। ২০০৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অ্যালবামটির কাজের কিছু অংশ তাঁর ২০০২ সালের পড়াশোনার শেষ বর্ষের পরীক্ষামূলক কাজ থেকে এসেছিল। অর্থাৎ যে শব্দ পরে বিপুল শ্রোতার কাছে পৌঁছায়, তার শুরু হয়েছিল শেখা, পরীক্ষা করা এবং বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করার পরিসরে।
এখানেই তাঁর প্রথম পরিচয়ের বিশেষত্ব: তিনি নিজের কণ্ঠ সামনে আনার তাড়া দিয়ে যাত্রা শুরু করেননি। গানটির জন্য যে কণ্ঠ দরকার, সেটি খুঁজেছেন; তারপর সেই কণ্ঠের চারপাশে সংগীত সাজিয়েছেন।
লোকগান বদলাল, নাকি শোনার পথ বদলাল?
‘ফিউশন’ শব্দটি দিয়ে হাবিবের কাজকে সংক্ষেপে বোঝানো যায়, কিন্তু পুরোটা ধরা যায় না। লোকগানের সুর ও ভাষার সঙ্গে আধুনিক বিট, ইলেকট্রনিক শব্দ এবং নতুন বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার শ্রোতাকে পরিচিত গান অন্যভাবে শুনতে সাহায্য করে। হাবিব ২০১৯ সালের সাক্ষাৎকারে বলেন, নতুন আয়োজন করতে গিয়ে তিনি লোকগানের মূল অনুভূতি ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। সেই কাজে এতটা সাড়া পাবেন, তা প্রত্যাশা করেননি।
তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দুটি বিষয় পাশাপাশি রাখা প্রয়োজন। একদিকে, নতুন সংগীতায়োজন অনেক তরুণ শ্রোতাকে লোকগানের দিকে টেনেছে। অন্যদিকে, একটি লোকগানের মূল কণ্ঠ, পরিবেশ ও ঐতিহ্যের মূল্যও আলাদা। তাই হাবিবের সাফল্যকে লোকগানের আগের শিল্পীদের কাজের বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং তাঁর কাজ দেখিয়েছে, পুরোনো গানের সঙ্গে নতুন শ্রোতার পরিচয় করানোর একটি পথ সংগীত প্রযোজনার মাধ্যমেও তৈরি হতে পারে।
‘মায়া’ থেকে ‘ময়না গো’: নিজের কণ্ঠের দিকে এগোনো
কৃষ্ণ–এর পর ২০০৪ সালে মায়া প্রকাশিত হয়। সেই অ্যালবামে কায়ার পাশাপাশি হেলালের কণ্ঠও ছিল। ২০০৫ সালের ময়না গো হাবিবের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ; এ সময় তিনি সংগীতায়োজনের পাশাপাশি নিজের কণ্ঠও শ্রোতার সামনে আনেন। ফলে যাঁরা তাঁকে মূলত নেপথ্যের সংগীতকর্মী হিসেবে চিনতেন, তাঁরা ধীরে ধীরে তাঁকে গায়ক হিসেবেও চিনতে শুরু করেন।
এই পরিবর্তনটি একদিনে ঘটেনি। সংগীত পরিচালনার নিজস্ব জায়গা তৈরি করার পর গায়ক হিসেবে সামনে আসায় হাবিবের দুটি পরিচয় পাশাপাশি চলতে থাকে। তাঁর গাওয়া গান শুনতে ভালোবাসেন এমন শ্রোতা আছেন; আবার অনেকের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান অন্য শিল্পীর কণ্ঠে সাজানো গানে।
শিল্পী বাছাই ছিল তাঁর কাজের অংশ
হাবিব ওয়াহিদের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে কেবল তিনি কী সুর করেছেন তা দেখলে চলে না; কার কণ্ঠে গানটি কল্পনা করেছেন, সেটিও দেখতে হয়। কৃষ্ণ–তে কায়া, মায়া–তে কায়া ও হেলাল—প্রথম দিকের কাজগুলোতেই কণ্ঠ নির্বাচনের গুরুত্ব স্পষ্ট। ২০০৪ সালের সাক্ষাৎকারে হাবিব নিজের কাজের একটি পদ্ধতি বর্ণনা করেন: প্রথমে শিল্পীর স্বাভাবিক কণ্ঠে পুরো গানটি শুনতেন, তারপর সেই কণ্ঠ ধরে সংগীতায়োজন গড়ে তুলতেন।
এই তথ্যটি হাবিবের সংগীতের শব্দ বোঝার জন্য মূল্যবান। আগে একটি প্রস্তুত বিট বানিয়ে তাতে কণ্ঠ বসানোর বদলে, অন্তত ওই সময়ের কাজে তিনি কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য থেকে আয়োজনের দিক ঠিক করতেন। তাঁর গানে বিভিন্ন শিল্পীর উপস্থিতি তাই শুধু সহযোগিতার সংখ্যা নয়; কণ্ঠকে সংগীত প্রযোজনার কেন্দ্রে রাখার একটি চিহ্ন।
জনপ্রিয় অ্যালবাম ও গানের বিস্তার
প্রথম কয়েক বছরের সাফল্যের পর হাবিব ধারাবাহিকভাবে অ্যালবাম ও গান প্রকাশ করেন। শোনো, পাঞ্জাবিওয়ালা, বলছি তোমাকে এবং বাবার সঙ্গে ও বোশেষে—তাঁর কাজের পরিসর বোঝার জন্য এসব প্রকাশনা উল্লেখযোগ্য। শিরিনের কণ্ঠে ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ গানের সংগীতায়োজনও তাঁর জনপ্রিয় কাজগুলোর একটি। ফেরদৌস ওয়াহিদের সঙ্গে অ্যালবাম প্রকাশ বাবা ও ছেলের সংগীতযাত্রাকে একই কাজে নিয়ে আসে।
হাবিব ওয়াহিদের জীবনীতে এই সময়টিকে কেবল ‘একটির পর একটি হিট গান’ বলে শেষ করা কঠিন। তিনি কখনো লোকগান নিয়ে কাজ করেছেন, কখনো আধুনিক প্রেমের গান, কখনো অন্য কণ্ঠশিল্পীর জন্য সুর ও আয়োজন করেছেন। একই সঙ্গে সংগীত বাজার ও গান শোনার মাধ্যমও বদলাতে থাকে। অ্যালবামকেন্দ্রিক শ্রোতার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে একক গান ও ভিডিওর শ্রোতাও গুরুত্ব পায়।
গায়ক হাবিব, নাকি সুরকার হাবিব?
শ্রোতার কাছে শিল্পীর সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিচয় সাধারণত তাঁর কণ্ঠ। তবে হাবিব নিজের পছন্দ সম্পর্কে যা বলেছেন, তা কিছুটা ভিন্ন। ২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গান গাওয়ার চেয়ে সংগীত রচনা ও আয়োজন করতে তাঁর বেশি ভালো লাগে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর কণ্ঠ শুনতে চান এমন শ্রোতাও তৈরি হয়েছে। এই দুই চাহিদা তাঁর কর্মজীবনে পাশাপাশি রয়েছে।
এই বক্তব্য মাথায় রাখলে হাবিবের কাজের মূল্যায়ন সহজ হয়। একটি গান তিনি গেয়েছেন কি না, শুধু সেই প্রশ্নে তাঁর অবদান মাপা যায় না। কোন শিল্পীর কণ্ঠ নির্বাচন করেছেন, সুরকে কীভাবে সাজিয়েছেন এবং রেকর্ড করা গানটির চূড়ান্ত শব্দ কীভাবে দাঁড়িয়েছে—সেসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চলচ্চিত্রে কাজ ও জাতীয় স্বীকৃতি
অ্যালবামের বাইরেও চলচ্চিত্রের সংগীতে হাবিব ওয়াহিদ কাজ করেছেন। ২০১১ সালের চলচ্চিত্র প্রজাপতির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এটি তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। কারণ চলচ্চিত্রের গানকে শুধু আলাদা একটি শ্রুতিমধুর গান হলেই চলে না; সেটিকে ছবির অনুভূতি ও গল্পের সঙ্গেও মানাতে হয়।
পুরস্কার কোনো শিল্পীর পুরো প্রভাব মাপতে পারে না। তবু এই অর্জন দেখায়, হাবিবের সংগীত পরিচালনার কাজ অ্যালবামের জনপ্রিয়তার বাইরেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদের সঙ্গে সংগীতের সম্পর্ক
ফেরদৌস ওয়াহিদ বাংলাদেশের পপসংগীতে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হাবিবের সংগীতজীবন শুরুর অনেক আগে। তাঁদের সম্পর্ক তাই দুই পরিচিত শিল্পীর সম্পর্কও। ২০০৮ সালে বাবা ও ছেলে একসঙ্গে প্রকাশিত ও বোশেষে অ্যালবাম নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে হাবিব বলেন, সংগীতজগতে নিজের কাজ শ্রোতারা কীভাবে গ্রহণ করছেন, সেটি বুঝে নেওয়ার পর যৌথ কাজটির সময় এসেছে বলে তাঁর মনে হয়েছিল।
একটি পরিবারে সংগীতের উত্তরাধিকার থাকলেই দুই প্রজন্মের কাজ এক রকম হয় না। ফেরদৌস ওয়াহিদের পরিচিতি গায়ক হিসেবে; হাবিব গায়ক হওয়ার আগেই নিজের জায়গা শক্ত করেছিলেন প্রযোজনা ও সংগীতায়োজনে। তাঁদের যৌথ কাজ এই দুটি পথকে একটি অ্যালবামে মিলিয়েছে।
ডিজিটাল যুগে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া
হাবিবের সংগীতজীবনের শুরুতে অ্যালবাম ছিল গান প্রকাশ ও শোনার প্রধান মাধ্যমগুলোর একটি। পরে গান শোনার অভ্যাস দ্রুত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরে যায়। এই পরিবর্তনের মধ্যে তিনি একক গান, মিউজিক ভিডিও এবং নিজের অনলাইন চ্যানেলে অন্য শিল্পীদের নিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন। ২০১৯ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শিল্পীদের নিয়ে গান করার কথাও জানান।
২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাঁর নতুন লোকগানভিত্তিক কাজ এবং কৃষ্ণ অ্যালবামের কণ্ঠশিল্পী কায়ার সঙ্গে দীর্ঘ সময় পর আবার সহযোগিতার কথা উঠে এসেছে। পুরোনো সহযোগীর সঙ্গে নতুন সময়ে কাজ করা তাঁর ক্যারিয়ারে একটি আকর্ষণীয় বৃত্ত তৈরি করে: যে কণ্ঠের সঙ্গে প্রথম বড় সাফল্য, সেই কণ্ঠের কাছে আবার ফিরে যাওয়া।
হাবিব ওয়াহিদের কাজ কেন আলাদা করে শোনা যায়
হাবিবের গান সম্পর্কে একটি সাধারণ বাক্য হলো—তিনি লোকগান ও আধুনিক সংগীত মিলিয়েছেন। কথাটি ঠিক, কিন্তু তাঁর কাজের স্বাতন্ত্র্য ধরতে আরও তিনটি বিষয় খেয়াল করা যায়।
প্রথমত, তিনি সংগীত প্রযোজনাকে সামনে এনেছেন। কৃষ্ণ–এর সাফল্য দেখিয়েছে, গানের প্রধান শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ না দিয়েও একজন সংগীত প্রযোজক শ্রোতার কাছে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, কণ্ঠশিল্পীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গান সাজানোর বিষয়টি তাঁর প্রথম দিকের কাজ ও সাক্ষাৎকারে পাওয়া যায়। তৃতীয়ত, লন্ডনে বাংলা লোকগান নতুনভাবে শোনা তাঁর সংগীতভাবনাকে প্রভাবিত করেছে। এই তিনটি সূত্র একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, তাঁর স্বাক্ষর শুধু একটি নির্দিষ্ট বিটে সীমাবদ্ধ নয়।
এটি তাঁর কাজের একটি বিশ্লেষণ, কোনো অপ্রকাশিত ব্যক্তিগত তথ্য নয়। নতুন তথ্যের দাবি করার চেয়ে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের কম আলোচিত সূত্রগুলো মিলিয়ে শিল্পীকে বোঝা পাঠকের জন্য বেশি নির্ভরযোগ্য।
হাবিব ওয়াহিদের জীবনী থেকে যে গল্পটি পাওয়া যায়
হাবিব ওয়াহিদের সংগীতযাত্রা শুরু হয়েছিল এমন এক প্রশ্ন থেকে, যার উত্তর তিনি কাজে খুঁজেছেন: পরিচিত বাংলা গান নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে শোনাতে পারে? সেই খোঁজে তিনি লন্ডনে সংগীত নিয়ে পড়েছেন, লোকগান শুনেছেন, উপযুক্ত কণ্ঠ খুঁজেছেন এবং রেকর্ডিংয়ের ভেতর নতুন আয়োজন পরীক্ষা করেছেন। কৃষ্ণ তাঁকে পরিচিত করেছে; পরের অ্যালবাম, নিজের গাওয়া গান এবং চলচ্চিত্রের সংগীত তাঁর কাজের পরিধি বাড়িয়েছে।
তাঁর ক্যারিয়ার মনে করিয়ে দেয়, একটি গানের পেছনে দৃশ্যমান শিল্পীর পাশাপাশি অনেক শিল্পসিদ্ধান্ত থাকে। হাবিব সেই সিদ্ধান্তগুলোকে নিজের পরিচয়ের অংশ করেছেন। তাই বাংলাদেশের আধুনিক বাংলা গানের ইতিহাসে তাঁকে বুঝতে হলে কেবল তাঁর গাওয়া গান নয়, তাঁর সাজানো গানও শুনতে হবে।
প্রায়ই জানতে চাওয়া প্রশ্ন
হাবিব ওয়াহিদের প্রথম অ্যালবাম কোনটি?
তাঁর প্রথম অ্যালবাম কৃষ্ণ, যা ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়। অ্যালবামটির গান গেয়েছিলেন কায়া; হাবিব সংগীত প্রযোজনা ও আয়োজন করেছিলেন।
হাবিব ওয়াহিদের বাবা কে?
তাঁর বাবা বাংলাদেশের পপসংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। বাবা ও ছেলে একসঙ্গে অ্যালবামেও কাজ করেছেন।
হাবিব ওয়াহিদ কোন চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন?
২০১১ সালের চলচ্চিত্র প্রজাপতির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জীবনী
- ইসলামী ব্যাংকে বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়া ৮৫৪২ নিয়োগ: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
- হাবিব ওয়াহিদ: ‘কৃষ্ণ’ থেকে বাংলা গানে এক নতুন শব্দের যাত্রা
- পূজা দাদলানীর ওড়না দিয়ে মুখ মুছলেন শাহরুখ, ভিডিও ঘিরে আলোচনা
- শ্রীলঙ্কাকে ৫–১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হকিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়
- অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেয়ার পোর্টালে ওপেনএআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ: আলবানিজ
- জুবাইদা রহমানের বক্তব্য জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে
- সাভারে ডিবি পরিচয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ, জিয়া প্রজন্ম দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
- আগামী ৬ মাসে ‘বিস্ময়কর’ গরমের প্রভাবে ৪ লাখ ৫১ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা
- ১ পয়সাও অতিরিক্ত বাসভাড়া নিলে বাতিল হবে রুট পারমিট
- স্কুলের সামনে শটগান নিয়ে কিশোরের হামলা, আহত ১১ শিক্ষার্থী
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- অকালে হারানো বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ মহানায়ক সালমান শাহ
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- এআই জগতের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করল টাইম
- ব্রাজিলের সঙ্গে খেললেই বদলাবে না বাংলাদেশের ফুটবল, বললেন আমিনুল
- দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
- দিল্লিতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টদের সেমিনারের অনুমতি দেয়নি পুলিশ
- ব্যাংকক নয়, যৌন পর্যটনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে টোকিও
- নেপালে আবারও বড় বন্যার শঙ্কা, কাটেনি উজানের জলপ্রবাহের বাধা




