• বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠিতে সাবেক সাংবাদিকের মৃত্যুর পর সন্তানদের সম্পদ দখলের চেষ্টা

ঝালকাঠিতে সাবেক সাংবাদিকের মৃত্যুর পর সন্তানদের সম্পদ দখলের চেষ্টা

নাদিম শরীফ: ঝালকাঠি প্রতিনিধি
নাদিম শরীফ: ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:০৬ ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য ও দৈনিক ভোরের কাগজ ও দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানদের নামে রেখে যাওয়া প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ‘ধানসিঁড়ি পরিবহন’-এর দুটি গাড়ি আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

পৈতৃক সম্পত্তি দখলে চেষ্টার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনিরুজ্জামান মনির ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার ও দুই সন্তান মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মৃত্যুর আগে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি উল্লেখিত টাকা ও দুটি পরিবহন গাড়ি রেখে যান।

তবে তাঁরই বড় ভাই আবুল বাশার শামীম ও শামীমের ছেলে সায়িদুল বাশার লোভের বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন কৌশলে এসব সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন মনিরুজ্জামানের স্ত্রী।

শারমিন আক্তারের দাবি, তাঁর ভাসুর শামীম প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন সাদা কাগজ, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন এবং ভুয়া কাবিন করে তাঁকে ‘স্ত্রী’ দাবি করে সম্পত্তি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ধানসিঁড়ি পরিবহনের দুটি গাড়ি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলে নিয়ে নেন শামীম।

থানায় অভিযোগ, তবুও ব্যবস্থা নেই

এই ঘটনায় শারমিন আক্তার গত ২৮ জুলাই ঝালকাঠি থানায় জিডি নং ১৩৮০ করেন। তবে পরিবারের দাবি, পুলিশ অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে ‘মনগড়া প্রতিবেদন’ প্রদান করেছে, যা সাংবাদিক পরিবারকে আরও হতাশ করেছে।

শারমিন আক্তার বলেন,
“স্বামীর রেখে যাওয়া টাকা ফেরত চাইলে আমাকে এবং আমার সন্তানদের বারবার মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাসায় এসে গালিগালাজ ও হামলার ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।”

অভিযোগ আরও চাঞ্চল্যকর রূপ নেয়

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আবুল বাশার শামীম শুধুমাত্র আর্থিক সম্পদ নয়, বরং ভাইয়ের স্ত্রীকে ভুয়া কাবিননামার মাধ্যমে নিজের স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। এমনকি তাঁর এক পরিচিত ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে।

পরিবারের অন্য সদস্যের বক্তব্য

সাবেক চেয়ারম্যান ও মনিরুজ্জামানের আরেক ভাই আবুল কালাম মাসুম সাংবাদিকদের বলেন,
“আমাদের বাবা রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ হিসেবে ছোট ভাই মনিরুজ্জামানের পাওনা প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ টাকা প্রতারক শামীম হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা পরিবার থেকে বারবার টাকা ও গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললেও সে প্রতারণার পথেই চলছে।”

তিনি প্রশাসন ও সাংবাদিক সমাজের প্রতি যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযুক্ত আবুল বাশার শামীমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,
“গাড়ি ও টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে সন্তানদের নামে এফডিআর করা হয়েছে। শিগগিরই সব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
তবে শারমিন আক্তারের সঙ্গে কাবিনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ফোন কেটে দেন।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/