• বুধবার , ২৭ মে, ২০২৬ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদী কি এখন লাশ গুমের ‘নিরাপদ স্থান’? ৫ বছরে উদ্ধার ২০৬৪

নদী কি এখন লাশ গুমের ‘নিরাপদ স্থান’? ৫ বছরে উদ্ধার ২০৬৪

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪৫ ২৭ মে ২০২৬

দেশের নদ-নদীগুলো যেন ক্রমেই লাশ গুমের একটি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থলে’ পরিণত হচ্ছে—এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে নৌ পুলিশের পরিসংখ্যানে।

নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে (২০২১–২০২৫) দেশের বিভিন্ন নদী থেকে মোট ২ হাজার ৬৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মরদেহের বড় একটি অংশ হত্যাকাণ্ডের শিকার বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও আশপাশের নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। অনেক মরদেহ পচন ধরে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, ফলে দাফন হয়েছে বেওয়ারিশ হিসেবে।

নৌ পুলিশের তথ্য বলছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি শনাক্ত করা গেলেও ৬৩৯টি শনাক্ত করা যায়নি। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় ডিএনএ সংরক্ষণ করা হলেও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৩১৮টি, ২০২২ সালে ৩৬০টি, ২০২৩ সালে ৪০৫টি, ২০২৪ সালে ৪৪০টি এবং ২০২৫ সালে ৫৪১টি মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অনেক মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পানির স্রোত, পচন এবং আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তদন্তও জটিল হয়ে পড়ে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নদীপথে নজরদারি দুর্বলতা এবং জনবিরল এলাকা ব্যবহারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা লাশ গুমের জন্য নদীকে বেছে নিচ্ছে।

নৌ পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। তবে পরিচয় না মেলায় অনেক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না করা হলে এ ধরনের ঘটনা কমানো কঠিন হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/