• শুক্রবার , ৩১ জুলাই, ২০২৬ | ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কতদিন লাগবে?

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কতদিন লাগবে?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৩ ৩১ জুলাই ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে বন্দি আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে দেশটির সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ইন্টারপোল রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ই জুন দুবাইয়ের একটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বন্দি প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি দিক পর্যালোচনার জন্য দুবাই পুলিশ ঢাকার কাছে অতিরিক্ত তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে, যা দ্রুতই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। তবে কোনো সরাসরি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে দেশে ফেরাতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে— অপরাধের উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন, দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্যতা, আদালতে যুক্তি-তর্ক প্রতিষ্ঠা এবং জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে আমিরাতের সরাসরি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও ‘সিকিউরিটি কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ ও জাতিসংঘ সনদের (UN Charter) আওতায় তাকে ফেরানো সম্ভব বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে দুবাইয়ের আদালতে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও পর্যালোচনা শেষ হতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বেনজীরকে ফেরানোর ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে তার সম্ভাব্য বিদেশী নাগরিকত্ব ও বিনিয়োগ সুবিধা। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এই আইজিপি বিনিয়োগসূত্রে তুরস্কের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন এবং আরব আমিরাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। আইনজীবীদের মতে, তিনি যদি দুবাইয়ের লিগ্যাল রেসিডেন্ট হন এবং সেখানে তার বিরুদ্ধে কোনো স্থানীয় অভিযোগ না থাকে, তবে তার আইনজীবীরা হস্তান্তরের বিরুদ্ধে আইনি যুক্তি তুলতে পারেন। ইতিপূর্বে পুলিশের পরিদর্শক হত্যা মামলার আসামি আরাভ খান ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহারের কারণে আমিরাত থেকে ফেরত না আসার নজির থাকলেও, বেনজীরের ক্ষেত্রে জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হলে এই জটিলতা কাটানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুদকের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলায় বেনজীর আহমেদের বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। অতীতে ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একাধিক হত্যা মামলার আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার নজির থাকলেও, সাবেক শীর্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশকে এখন জটিল আইনি ধাপ ও উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা পার হতে হবে।

বিজ্ঞাপন