• বুধবার , ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে কোরআন ও হিজাববিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

ইবিতে কোরআন ও হিজাববিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

তানিম তানভীর: কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
তানিম তানভীর: কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ০৪:২৬ ২ নভেম্বর ২০২৫

সাজিদ ও পোশাক ইস্যুতে  পবিত্র কোরআন ও হিজাববিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

কর্মসূচিতে তারা ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘শিক্ষক অবমাননা, মানিনা মানবো না’, ‘নোংরা রাজনীতির ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘লাশ নিয়ে রাজনীতি চলবে না’সহ নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়।

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “যে কোনো রাজনৈতিক বা অন্য যে কোনো ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীই সাজিদ ইস্যুকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এ ইস্যুকে ব্যবহার করে একটা অংশ আল কুরআন বিভাগকে নিয়ে, পবিত্র আল কুরআনকে নিয়ে, হিজাব ও নারীদের পোশাকসহ ইসলামকে নিয়ে কটূক্তি করে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এর বিরুদ্ধেই আজকে আমাদের অবস্থান। কিছু ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে কুরআন ও নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এমনকি কেউ কেউ বলেছেন, আল-কোরআন বিভাগের ছাত্রী নাকি ‘নেংটা হয়ে কোরআন পড়ে’। এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য কোনো নাস্তিকও করার সাহস দেখায়নি। এছাড়া আরেকজন বলছে, স্যারকে নেংটা হয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। 

তারা আরও বলেন, আমরা কোনো ভুলের পক্ষ নিচ্ছি না, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ইতোমধ্যে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপরও তাকে বহিষ্কারের দাবি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ অগ্রহণযোগ্য। এটি ইসলামবিদ্বেষী ও শিক্ষাবিরোধী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা কোনোভাবেই সাজিদ আব্দুল্লাহকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি হতে দিতে চাই না। কিন্তু আমরা দেখছি তারা ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সাজিদ ইস্যুকে ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অডিয়ো ক্লিপ ভাইরাল হওয়া আল কুরআন বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জারিন তাসনীম পুষ্প। এতে তারা ৩০ ঘণ্টার মধ্যে স্বপদ হতে বহিষ্কার করে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষ ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সেই শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। 
 

বিজ্ঞাপন