• বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ | ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনের পক্ষে গান গাওয়ায় ,কানাডায় নিষিদ্ধ নিক্যাপ

ফিলিস্তিনের পক্ষে গান গাওয়ায় ,কানাডায় নিষিদ্ধ নিক্যাপ

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪:৩৯ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আইরিশ হিপহপ ব্যান্ড নিক্যাপকে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির সরকার। অভিযোগ, ব্যান্ডটি হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রতি সরব অবস্থান নেওয়ার কারণে এর আগে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি ও নরওয়ে থেকেও বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছে তারা। আগামী মাসে কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভারে নিক্যাপের কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল।

আল–জাজিরা ও আরব নিউজ জানিয়েছে, কানাডা সরকার নিক্যাপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, ‘এই ব্যান্ড প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন হামাস ও হিজবুল্লাহর সমর্থন জানিয়েছে। তাই তাদের কানাডা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’

কানাডার অপরাধ দমন–সংক্রান্ত পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ও লিবারেল এমপি ভিন্স গাসপারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন,
‘বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, সহিংসতায় উসকানি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় অবস্থানে আছি। রাজনৈতিক বিতর্ক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে সন্ত্রাসী সংগঠনের খোলাখুলি সমর্থন কোনোভাবেই মুক্ত মতপ্রকাশ হতে পারে না।’

অন্যদিকে এ নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নিক্যাপ। ব্যান্ডটির দাবি, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণেই তাদের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা চলছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘আমরা হামাস বা হিজবুল্লাহকে সমর্থন করি না, সহিংসতার পক্ষেও নই। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক। আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তারা ভিন্স গাসপারোর মন্তব্যকে ‘গভীরভাবে বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

নিক্যাপের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দ্বন্দ্ব শুরু হয় ২০২৪ সালে। তখন তারা ‘ফেয়ারওয়েল টু দ্য ইউনিয়ন’ নামে একটি ট্যুর আয়োজন করে। এর পর যুক্তরাজ্য সরকার তাদের শিল্প অনুদান বাতিল করে দেয়। যদিও আদালত পরে সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে।

এছাড়া, ২০২৪ সালে লন্ডনের এক কনসার্টে ব্যান্ডের সদস্য লিয়াম ওগ ও’হান্নাই (মো চারা) মঞ্চে হিজবুল্লাহর পতাকা প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয় এবং বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। মামলার শুনানি আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি নরওয়ে ও হাঙ্গেরিও নিক্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত জুলাইয়ে ‘ইহুদিবিদ্বেষের’ অভিযোগে তাদের তিন বছরের জন্য হাঙ্গেরিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এভাবে একের পর এক দেশ থেকে বাধার মুখে পড়লেও নিক্যাপ জানিয়েছে, তারা ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে কোনোভাবেই সরে আসবে না।
 

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/