• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকেয়া না শোধ করলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ: আদানি পাওয়ার

বকেয়া না শোধ করলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ: আদানি পাওয়ার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:০৩ ৪ নভেম্বর ২০২৫

ভারতের আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-কে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, চলতি মাসের ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত করা হবে।

৩১ অক্টোবর পিডিবি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আদানি পাওয়ারের ভাইস চেয়ারম্যান অবিনাশ অনুরাগ উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা আদায়ের জন্য বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পিডিবি ৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেনি। এর মধ্যে ২৬২ মিলিয়ন ডলারকে পিডিবি ‘বিরোধহীন পাওনা’ হিসেবে স্বীকার করেছে।

পি‌ডি‌বির সূত্র জানায়, আদানির দাবিকৃত অর্থের বড় অংশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে, বিশেষ করে কয়লার দামকে কেন্দ্র করে। পিডিবি দাবি করছে, চুক্তির শর্তে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় আদানির প্রতি টন কয়লার দাম ১০–১২ ডলার বেশি। বারবার চিঠি ও বৈঠক করেও সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

গত বছরও আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছিল এবং কিছুদিন আংশিক সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল।

আদানি পাওয়ারের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ)-এর ১৩.২ ধারা অনুযায়ী, বকেয়া পরিশোধ ব্যর্থ হলে সরবরাহ স্থগিত করার অধিকার কোম্পানির রয়েছে। তারা জানিয়েছে, ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া নিষ্পত্তি না হলে ১১ নভেম্বর থেকে সরবরাহ বন্ধ করা হবে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, সরবরাহ বন্ধ থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রের নির্ভরযোগ্য উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে সক্ষমতা চার্জ (Capacity Payment) পাওয়ার অধিকার তাদের থাকবে।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো চিঠিতে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি লিখেছেন, বাংলাদেশ আংশিক অর্থপ্রদান করলেও এখনও প্রায় ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া আছে। তিনি সতর্ক করেছেন, বকেয়া অর্থ দ্রুত পরিশোধ না হলে কার্যক্রম ও অর্থায়ন মারাত্মক চাপে পড়বে।

পিডিবি বর্তমানে সরকারগঠিত ‘বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা জাতীয় কমিটি’-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন কমিটি গত ২ নভেম্বর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে আদানি চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন জানুয়ারিতে জমা দেওয়ার কথা।

তাছাড়া, আদানি পাওয়ার পিডিবিকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নবায়নের তাগিদ দিয়েছে। ২০১৭ সালের চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা এলসি ৩০ অক্টোবর মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখনো নবায়ন হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, এলসি নবায়নে দেরি হলে তা ‘চুক্তিভঙ্গ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বিজ্ঞাপন