• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের নাগরিক কি না, হ্যাঁ অথবা না বলুন’—হুমায়ুন কবিরকে হাসনাত

যুক্তরাজ্যের নাগরিক কি না, হ্যাঁ অথবা না বলুন’—হুমায়ুন কবিরকে হাসনাত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৮ ২৫ আগস্ট ২০২৬

নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করে জানাতে বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। নাগরিকত্ব ছেড়ে থাকলে এর প্রমাণও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, প্রশ্নটির উত্তর সরাসরি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন হাসনাত।

একজন প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয় উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, কূটনীতিকেরা সাধারণত বিনয় ও ভদ্রতার সঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দেন। কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়াতে হলেও কূটনৈতিকভাবে তা করা হয়। কিন্তু হুমায়ুন কবির নাগরিকত্বের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে গণমাধ্যমকেই আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ তার।

হাসনাত বলেন, সংবিধান, আইন ও বিধিবিধান সবার জন্য সমান। বিদেশি নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় কেউ সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে পারেন না। এনসিপির একজন নেতা বিদেশি নাগরিকত্বের কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে তারা আইনি বিধান মেনে নিয়েছেন।

বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনের সময় বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। তার দাবি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তিনজনের কথা বলেছে, তবে তার ধারণা সংখ্যাটি আরও বেশি।

হুমায়ুন কবিরের প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, তিনি তার ‘শত্রু নন’। বহু বছর যুক্তরাজ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহযোগী হিসেবে ছিলেন। তাই প্রধানমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের বিষয়টি জেনে-বুঝেই তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার জবাবদিহি থাকা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, তারা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি দাবি করছেন না। শুধু জানতে চাইছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না এবং ছেড়ে থাকলে তার প্রমাণ কী।

হাসনাতের মতে, এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির স্পষ্ট উত্তর না দিলে তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার আচরণকে ক্ষমতার দম্ভ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও আবদুল মোমেনের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত অভিযোগ করেন, তারা যথাক্রমে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করে মন্ত্রী হয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা নিজ নিজ দেশে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আগের সরকারের মতো তথ্য গোপন ও অসততার ঘটনা আর দেখতে চান না উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, বিএনপির সরকারও যেন আওয়ামী লীগ সরকারের মতো না হয়ে ওঠে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন হাসনাত। তার মতে, প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের ব্যঙ্গ করা এবং তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেওয়া একজন মন্ত্রীর পেশাদার আচরণ হতে পারে না।

শেষে হুমায়ুন কবিরকে শুধু দুঃখপ্রকাশ না করে তার নাগরিকত্বের বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান হাসনাত। তার ভাষায়, ‘হ্যাঁ অথবা না—বলুন।’

বিজ্ঞাপন