• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দিকে আইনজীবীর জুতা নিক্ষেপ!

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দিকে আইনজীবীর জুতা নিক্ষেপ!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৫৫ ৬ অক্টোবর ২০২৫

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সোমবার সকালে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাইয়ের দিকে জুতা ছুড়ে মারেন ৭১ বছর বয়সী এক আইনজীবী। মুহূর্তেই আদালত কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ওই আইনজীবীকে আটক করে আদালত কক্ষ থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, আটক আইনজীবীর নাম রাকেশ কিশোর। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে কোর্ট নম্বর ১–এ শুনানি চলাকালে তিনি নিজের স্পোর্টস শু খুলে প্রধান বিচারপতির দিকে নিক্ষেপ করেন। সৌভাগ্যক্রমে জুতাটি প্রধান বিচারপতির গায়ে লাগেনি।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আইনজীবীকে আটক করে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা ইউনিটের হাতে তুলে দেন। তিনি ময়ূর বিহার এলাকার বাসিন্দা এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধিত সদস্য।”

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো মন্দির চত্বরে ‘ভগবান বিষ্ণু’র একটি মূর্তি পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যেই রাকেশ কিশোর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রণের সঙ্গে বেঞ্চে বসে প্রধান বিচারপতি গাভাই আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং আবেদনকারীকে বলেন,

“এটি পুরোপুরি প্রচারের স্বার্থে করা মামলা। আপনি যান এবং দেবতাকে নিজেকেই কিছু করতে বলুন। আপনি যদি ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত হন, তবে প্রার্থনা করুন ও ধ্যান করুন।”

এই মন্তব্যেই রাকেশ কিশোর ক্ষোভে ফুঁসছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ আদালতে তিনি সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটান জুতা ছুড়ে।

তবে ঘটনার পর প্রধান বিচারপতি গাভাই কোনো আতঙ্ক বা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্তভাবে আদালতের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর সংযত আচরণে আদালতের পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তারা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে সমন্বয় করছে, যাতে ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা যায় এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাই ভারতের অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা সুবিধা ‘জেড প্লাস’ প্রটেকশন পান। এ ঘটনার পর তার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের আইনি মহল এই ঘটনাকে বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক “বিরল ও লজ্জাজনক অধ্যায়” হিসেবে অভিহিত করেছে। অনেকে একে “বিচারপতি ও আদালতের মর্যাদার প্রতি চরম অসম্মান” বলে মন্তব্য করেছেন।

পরে প্রধান বিচারপতি গাভাই এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,

“আমি সব ধর্মে বিশ্বাস করি, সব ধর্মকেই সম্মান করি। আমার মন্তব্যের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মকে আঘাত করা নয়, বরং আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা।”

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, রাকেশ কিশোরের মানসিক অবস্থা ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ আইনজীবীর আচরণকে “বিচারব্যবস্থার প্রতি অবমাননা” বলে সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ বলেছেন এটি “বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।”

এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালত চত্বরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন থাকবে।

বিজ্ঞাপন