• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনি বন্দীর ওপর নৃশংস নির্যাতন ভিডিও: সামরিক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

ফিলিস্তিনি বন্দীর ওপর নৃশংস নির্যাতন ভিডিও: সামরিক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪৮ ১ নভেম্বর ২০২৫

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান আইন কর্মকর্তা মেজর-জেনারেল অ্যাডভোকেট জেনারেল ইয়াফাত তোমের-ইয়েরুশালমি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পেছনে কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গাজায় ফিলিস্তিনি বন্দীর ওপর সৈন্যদের নির্যাতনের একটি ভিডিও প্রকাশের অনুমোদন দেওয়ার জন্য।

ঘটনাটি ঘটে তখন, ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার সময় এক বন্দীকে আটক করা হয়েছিল। পরে ওই ভিডিও ফাঁস হওয়ায় পাঁচজন ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সৈন্যরা বন্দীকে আলাদা স্থানে নিয়ে যান, যেখানে তারা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের কার্যকলাপ আড়াল করার চেষ্টা করছিল। সৈন্যদের সঙ্গে কুকুরও ছিল।

তদন্তের সময়, কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদরা বিক্ষোভে সামরিক ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশ করেন। ঘটনার একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও ইসরায়েলের এন১২ নিউজ ফাঁস করে দেয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ভিডিও ফাঁসের বিষয়ে ফৌজদারি তদন্ত চলছে এবং তোমের-ইয়েরুশালমিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তোমের-ইয়েরুশালমি আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছেন, ভিডিও প্রকাশের উদ্দেশ্য ছিল সামরিক বাহিনীর আইন বিভাগের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা।

ভিডিও ফুটেজটি সদে তেইমান আটক কেন্দ্র থেকে পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় অংশ নেওয়া কিছু হামাস যোদ্ধা এবং পরে গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস অভিযানের সময় আটক ফিলিস্তিনিদের এখানে রাখা হয়েছিল। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হেফাজতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর গুরুতর নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এই নির্যাতন পদ্ধতিগত ছিল না।

তোমের-ইয়েরুশালমি তাঁর পদত্যাগপত্রে বন্দীদের ‘নিকৃষ্টতম ধরনের সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেছেন, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সন্দেহজনক নির্যাতনের তদন্তের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিবিদ পদত্যাগকে দ্রুত স্বাগত জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পদত্যাগকে প্রশংসা করেছেন এবং আরও আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। বেন-গভির নিজে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর তার কট্টরপন্থী মনোভাব প্রকাশ করা একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছেন।

চলতি মাসে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে গাজার প্রায় ১,৭০০ বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে অনেকে বন্দিদশায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। হামাসের কাছে বন্দী থাকা কিছু ইসরায়েলি জানিয়েছে, বেন-গভিরের দম্ভপূর্ণ মন্তব্যের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো। তবে বেন-গভির দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ উল্টো হামাসের পক্ষেই যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন