• বুধবার , ২৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে নাম মুছে গেল সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে নাম মুছে গেল সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের নাম

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩৬ ৮ নভেম্বর ২০২৫

সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার নাম যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) এক ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিগগিরই প্রেসিডেন্ট শারা’র যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, তার আগেই এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, আসন্ন দিনগুলোতে সিরিয়া ও আহমেদ আল শারার নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলবে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে।

আহমেদ আল শারা একসময় আলকায়দার সহযোগী সংগঠক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আলকায়দা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘হায়াত তাহরির আল শাম’ (এইচটিএস) নামের নতুন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তার নেতৃত্বাধীন এইচটিএস বাশার আল আসাদ সরকারকে উৎখাত করে রাজধানী দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং শারা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২৪ সালে বাশার আল আসাদের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র আহমেদ আল শারাকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছিল।

গৃহযুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবেই গৃহীত হয়।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট শারা’র নাম সন্ত্রাসী তালিকা থেকে মুছে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট এক বিবৃতিতে বলেন,

“আসাদ পরিবারের হাতে সিরিয়া অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্ব দেশটিকে সেই অন্ধকার অধ্যায় থেকে বের করে এনেছে। নতুন নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনর্গঠনের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি

বিজ্ঞাপন