• বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট, ২০২৬ | ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে আসছে ৫০ হাজার টন চাল, আরও আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

ভারত থেকে আসছে ৫০ হাজার টন চাল, আরও আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২১ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দেশে আতপ চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত আতপ চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। অর্থ উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়তির দিকে থাকলেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক দামে চাল সংগ্রহ করতে পারছে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিশ্ববাজারে চালের দাম বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ চীনের ব্যাপক পরিমাণ চাল আমদানি। তারা মূলত ভিয়েতনাম থেকে চাল কিনছে, যার প্রভাব বাজারে পড়ছে। তবে তারপরও এবার আমরা যে ৫০ হাজার টন চাল আনছি, তার দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা কম। এটি আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয়।”

চাল আমদানির পাশাপাশি সার আমদানিতেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, মরক্কো থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আনা হচ্ছে এবং শিগগিরই আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে। সারের দামও সরকারের জন্য অনুকূলে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. সালেহউদ্দিন। তিনি বলেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একটি ভবন নির্মাণে ১০৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় চারটি সড়ক প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৯টি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন বিতরণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এছাড়া আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি করা হবে। একই সঙ্গে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাইস ব্র্যান অয়েল আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য একটি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে অনুমতি প্রত্যাহারের ঝুঁকি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সার্বিকভাবে, চাল, সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগগুলো বাজারে স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন