• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়: এক কেজি মাংসের দাম এক কোটি রিয়াল!

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়: এক কেজি মাংসের দাম এক কোটি রিয়াল!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৭ ৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের অর্থনীতিতে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান নজিরবিহীনভাবে কমে গিয়ে কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। খোলা বাজারে বর্তমানে এক মার্কিন ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৪ লাখ রিয়াল। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নের ফলে এক কেজি মাংসের দাম এখন প্রায় এক কোটি রিয়ালে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে। নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া দামে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারসহ দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন ব্যবসায়ীরা। তেহরানের পাশাপাশি ইসফাহান, শিরাজ ও কেরমানশাহ শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে ইরানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রিয়ালের মান আরও কমে যেতে পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন।

মিডল ইস্ট আই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রিয়ালের অস্থিরতার কারণে পণ্য কেনাবেচা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তেহরানের কার্পেট বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “মুদ্রার মান প্রতি মুহূর্তে বদলাচ্ছে। ফলে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাই এই সংকটের প্রধান কারণ। তবে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এতটাই বেড়েছে যে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের পক্ষে জীবনধারণ কঠিন হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারের ভেতরেই চাপের মুখে পড়েছেন। রাজনৈতিক বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের কারণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলমান বিক্ষোভকে শত্রুপক্ষের উসকানি হিসেবে উল্লেখ করে কঠোরভাবে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এই সংকটের মধ্যেই ইরান আগামী দুই বছরে ৩০টি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ জানান, আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যবেক্ষণের জন্য এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভারী তুষারপাতে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত এবং নয়জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

বিজ্ঞাপন