• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একদিন হিজাব পরা কোনো নারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন—ওয়াইসির মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

একদিন হিজাব পরা কোনো নারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন—ওয়াইসির মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৫৮ ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সম্প্রতি দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে সব সময় একজন হিন্দু ব্যক্তিই বসবেন। তার এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়ান মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের অধিকার সীমিত করা যায় না। তিনি বলেন, বাবাসাহেব আম্বেদকরের রচিত সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী যেকোনো নাগরিক প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মেয়র হতে পারেন। এ সময় তিনি বলেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন—একদিন হিজাব পরা কোনো নারীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ওয়াইসি বলেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানের মর্ম বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, বাবাসাহেব আম্বেদকর হিমন্ত বিশ্বশর্মার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত ও দূরদর্শী ছিলেন বলেই এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন।

ওয়াইসির বক্তব্যের পালটা প্রতিক্রিয়ায় হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে তার মতে, ভারত একটি হিন্দু সভ্যতার রাষ্ট্র এবং সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী পদে একজন হিন্দুই বসবেন। এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

এদিকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এই প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াইসি যদি হিজাব পরা নারীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, তাহলে আগে নিজের দল এআইএমআইএমের সভাপতি পদে কোনো হিজাব পরা নারীকে নির্বাচিত করুন। তবে এই মন্তব্যের বিষয়ে আলাদা করে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি ওয়াইসি।

বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে ওয়াইসি বলেন, বর্তমান সরকার মুসলিম নারীদের হিজাব পরার অধিকারেও হস্তক্ষেপ করছে। তার দাবি, ঘৃণার রাজনীতি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না এবং দেশের মানুষ একদিন এর জবাব দেবে। প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে এই বাকযুদ্ধ নতুন করে ভারতের রাজনীতিতে সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন