• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: কূটনৈতিক অডিও ঘিরে নতুন আলোচনা

বাংলাদেশে জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: কূটনৈতিক অডিও ঘিরে নতুন আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৩ ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী— এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে। দেশটির হাতে আসা একটি অডিওতে ঢাকায় কর্মরত এক মার্কিন কূটনীতিককে কয়েকজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এ ধরনের মন্তব্য করতে শোনা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অডিওটি গত ডিসেম্বরের একটি বৈঠকের সময়কার।

ওই অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পেতে পারে। এমন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামীকে একটি সম্ভাব্য ‘বন্ধু’ হিসেবে দেখতে চায়। উল্লেখ্য, দলটি অতীতে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছিল— সর্বশেষ শেখ হাসিনার শাসনামলে।

ওই আলোচনায় কূটনীতিক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।” একই সঙ্গে তিনি ছাত্রশিবিরের নেতাদের টেলিভিশন টকশোতে আনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন করেন, শিবিরের নেতারা এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কি না।

শরীয়াহ আইন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশে শরীয়াহ আইন চালু করবে না। তার ভাষায়, যদি শরীয়াহ আইন চালু করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরদিনই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি পোশাক শিল্পনির্ভর। ফলে এ খাতে অর্ডার বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতিই মারাত্মক সংকটে পড়বে।

কূটনীতিক আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু জামায়াত নয়— হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। তার মতে, এসব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সরাসরি ফোন করে নিজেদের অবস্থান জানাতে পারবে, বিশেষ করে শরীয়াহ আইন নিয়ে কোনো উদ্বেগ দেখা দিলে।

বাংলাদেশে শরীয়াহ আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষিত ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক। এ কারণে জামায়াত এমন সিদ্ধান্ত নেবে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে।

এ বিষয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই ওয়াশিংটন পোস্ট-কে জানান, আলোচনাটি গত ডিসেম্বরে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে হয়েছিল, যেখানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসব আলোচনা সাধারণত প্রকাশের জন্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠক নিয়ে তারা সাধারণত মন্তব্য করেন না। তবে তিনি জানান, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর ওয়াশিংটনে জামায়াত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে চারবার বৈঠক হয়েছে। ঢাকায়ও একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে জামায়াতের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক এমনিতেই জটিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নামই হচ্ছে জামায়াত, যাদের ভারত পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রসঙ্গেও ওই মার্কিন কূটনীতিক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে এটি ছিল “জিনিয়াস সিদ্ধান্ত”, যদিও আদালত শতভাগ স্বচ্ছ বা নিরপেক্ষ ছিল না। তার মতে, গণআন্দোলনের সময় মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনা গুরুতর অপরাধ করেছেন, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

বিজ্ঞাপন