• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের সাইরেন? লাইভ-ফায়ার মহড়ায় আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান

হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের সাইরেন? লাইভ-ফায়ার মহড়ায় আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:০৯ ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে ওঠার প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বরাবর আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেশটি ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই নোটিশে জানানো হয়, আগামী ২৭ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর আশপাশে সামরিক মহড়া পরিচালিত হবে। মহড়ার সময় পাঁচ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধের একটি নির্ধারিত বৃত্তাকার এলাকায় স্থলস্তর থেকে শুরু করে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আকাশসীমা ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সময়কালে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমাকে বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে মোকাবিলার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপসহ সব ধরনের বিকল্প টেবিলে রয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরানি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব হবে দ্রুত ও ব্যাপক।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথকে ঘিরে যেকোনো সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে।

এর মধ্যেই আরও কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার করে যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়, তাহলে সেই দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। মঙ্গলবার আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বন্ধু। কিন্তু যদি তাদের মাটি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা জাগাচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে।

বিজ্ঞাপন