• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাতৃভাষার টানে কূটনৈতিক শুভেচ্ছা: বাংলায় কথা বলে সম্মান জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মাতৃভাষার টানে কূটনৈতিক শুভেচ্ছা: বাংলায় কথা বলে সম্মান জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫১ ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Brent Christensen। ভাষার মাসে তার এই উদ্যোগ কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক শুভেচ্ছা নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শনের এক প্রতীকী অভিব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) U.S. Embassy Dhaka-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি সাবলীল বাংলায় বলেন, “সবাইকে জানাই মহান একুশের শুভেচ্ছা। গভীর শ্রদ্ধা জানাই ভাষা শহীদদের। ভাষা আমাদের সংস্কৃতির পরিচয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নিজের ভাষায় কথা বলা এবং নিজের ইতিহাস ধারণ করা একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ দিনে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, সংসদ সদস্য এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিদেশি কূটনীতিকসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ভোর থেকেই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খালি পায়ে ও হাতে ফুল নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে শহীদ মিনারের দিকে অগ্রসর হন।

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় যারা আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ঢাকার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দিবসটি ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাংলায় শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনা একুশের চেতনাকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে। ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা একুশের আত্মত্যাগের মূল দর্শনের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ—নিজস্ব ভাষা ও ইতিহাসের প্রতি অটল ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা।

বিজ্ঞাপন