• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেলের দিকে আরও এক দেশ

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেলের দিকে আরও এক দেশ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৩ ১৭ মার্চ ২০২৬

চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পথ খুঁজছে থাইল্যান্ড। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই দেশটি এখন রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে—যা বৈশ্বিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে ব্যাংকক ও মস্কোর মধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষের দাবি, রাশিয়াও এই প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস খোঁজা ছাড়া অন্য কোনো পথ দেখছে না দেশটি।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট এড়াতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বর্তমানে থাইল্যান্ডের হাতে প্রায় তিন মাসের মতো তেলের মজুদ থাকলেও, বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা আসতে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই রাশিয়ার মতো বড় উৎপাদনকারী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কৌশল নিচ্ছে তারা।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশের সাধারণ জনগণের ওপর চাপ কম রাখতে সক্রিয় রয়েছে থাই সরকার। পরিবহন খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিজেলের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য—বিশ্বব্যাপী সংকটের মাঝেও যেন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর।

বিজ্ঞাপন