• বুধবার , ২৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে পারমাণবিক বোমা ইস্যুতে নতুন বিতর্ক: কট্টরপন্থীদের প্রকাশ্য দাবি

ইরানে পারমাণবিক বোমা ইস্যুতে নতুন বিতর্ক: কট্টরপন্থীদের প্রকাশ্য দাবি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৫ ২৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগে যেখানে এই বিষয়টি আড়ালে-আবডালে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা প্রকাশ্য আলোচনায় উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর দেশটির কট্টরপন্থী মহল আরও জোরালোভাবে পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ করে, Islamic Revolutionary Guard Corps-এর প্রভাব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান। সূত্র বলছে, পারমাণবিক নীতির প্রশ্নে কট্টর অবস্থান গ্রহণকারীরা ধীরে ধীরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বাড়াচ্ছেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবুও অভ্যন্তরীণভাবে এই নীতি পরিবর্তনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অতীতে পারমাণবিক অস্ত্রকে ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছিলেন। সেই অবস্থান অনুযায়ী ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। একইসঙ্গে দেশটি Nuclear Non-Proliferation Treaty (এনপিটি)-এর সদস্য হিসেবেও আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে এসেছে।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। Tasnim News Agency-তে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে সরাসরি এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়টিও এখন আর গোপন নয়—রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও তা আলোচিত হচ্ছে।

এদিকে কট্টরপন্থী রাজনীতিক মোহাম্মাদ জাভেদ লারিজানি এনপিটি স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে এই চুক্তি ইরানের জন্য কতটা কার্যকর, তা মূল্যায়ন করা উচিত। প্রয়োজন না থাকলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কথাও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সামরিক হামলা ইরানের কৌশলগত চিন্তাভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলার মাধ্যমে সুবিধা পাওয়ার আশা ছিল, এখন অনেকেই মনে করছেন—এতে বাস্তবিক লাভ কম। ফলে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পক্ষে জনমত ও রাজনৈতিক চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিতেও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান সত্যিই পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের পথে এগোয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

বিজ্ঞাপন