শরীয়াহ আইন কায়েমে অমুসলিমদের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে না: শিশির মনির


প্রকাশিত: ০৬:৪৩ ৮ অক্টোবর ২০২৫
জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায় আসলে শরীয়াহ আইন কায়েম হবে কিনা, আর হলে তা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপরও প্রযোজ্য হবে কিনা—এই প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ইসলামিক শরীয়াহ আইনের প্রয়োগ নিয়ে সমাজে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। ইসলামী আইনের মূল বিষয় হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ভয়ভীতি ছড়ানো নয়।
শরীয়াহ আইন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপরও বর্তাবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, “ইসলামের আইনটা কী? ইসলামের আইনটা হলো, যদি কারও চুরি সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার শাস্তি হবে। তবে এটাকে বুঝতে হবে কিভাবে অতীতে এই বিধানগুলোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। খোলাফায়ে রাশেদের যুগে প্রায় ৮০০ বছর ইসলামী শাসন চলেছে। কিন্তু তখন কয়জনের হাত কাটা হয়েছে? বরং বহু ক্ষেত্রে চুরির শাস্তি কার্যকর না করে স্থগিত রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন খুব সরলীকরণ করে ফেলি যে শরীয়াহ মানেই হাত কাটা—তখন সেটা মিস ইন্টারপ্রিটেশন হয়ে যায়। ইসলামি আইন ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট, সামাজিক অবস্থা ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করতে হয়। এটি কোনো কঠোর বা অমানবিক ব্যবস্থা নয়।”
আইন পরিবর্তন বা আধুনিকীকরণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শিশির মনির বলেন, “ধর্মীয় আইনকে বাইনারি বা একদম সাদা-কালো দৃষ্টিতে দেখা ঠিক নয়। সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতিটি ঘটনার মূল্যায়ন আলাদা হবে। যেমন, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আর উত্তেজনার বশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এক নয়। দণ্ডবিধিতে যেমন পার্থক্য রয়েছে, শরীয়াহতেও তাই।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, শরীয়াহ আইনের প্রয়োগ মানে এই নয় যে সমাজে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হবে। বরং আইনের লক্ষ্য হবে ন্যায়বিচার ও অপরাধ দমন।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে শিশির মনির বলেন, “বাংলাদেশের পেনাল কোড বা দণ্ডবিধি যেভাবে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, ঠিক তেমনি শরীয়াহতেও সব ধর্মের মানুষের জন্যই ন্যায়ের কাঠামো এক। এখানে কারও প্রতি বাড়তি কঠোরতা বা কোনো বিশেষ ছাড় থাকবে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি শিশির মনির বলেন, ইসলামী আইন নিয়ে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দেন। অথচ ইতিহাসে দেখা যায়, ইসলামী শাসনব্যবস্থার যুগে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বে শান্তি ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় ছিল।
তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, “ধর্মীয় আইন নিয়ে ভয় বা বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। শরীয়াহ আইন মূলত ন্যায়, মানবিকতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্যই।”
সর্বোচ্চ পঠিত - রাজনীতি
- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে ম্যানেজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৭ জুলাই
- শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গুম-নির্যাতন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ
- তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংককে ২,৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
- আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল
- খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলি, আহত দুই মুসল্লি
- পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে ১-১ গোলের সমতায়
- নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ রাস্তায় নেমেছে ইসরায়েলিরা
- জুলাইয়ে ৪০ লাখ পরিবারের হাতে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড
- সীমান্ত ব্যাংকে অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার/ম্যানেজার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
- বার কাউন্সিল এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাইমা রহমান
- রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু, আদালতে নতুন দাবি আসামির
- নড়াইলে প্রবাসীর বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ, আদালতের শরণাপন্ন পরিবার
- নরওয়ের পত্রিকায় মোদিকে ‘সাপুড়ে’ কার্টুন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক
- স্পটিফাইয়ে সাইবার হামলার দাবি, প্রো-ইরান হ্যাকার গ্রুপকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ
- ভাঙা আঙুলেও থামেননি মার্টিনেজ, ফাইনালের ‘অপরাজিত রাজা’ গড়লেন নতুন ইতিহাস
- ঢাবিতে তারেক রহমানের ভর্তি দেখেছিলেন ওয়ালী উল্লাহ, জানালেন চার দশক আগের স্মৃতি
- ঢাবি থেকে তারেক রহমানের ডক্টরেট ডিগ্রি- দাবিটি ‘ভুয়া’ বলছে ফ্যাক্টওয়াচ
- ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া’- চট্টগ্রামে মীর হেলালের মন্তব্য
- দেশে ৫ মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার
- আমিনুল হকের নির্বাচনী ফেস্টুনে আসামির ছবি নিয়ে বিতর্ক





