• মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ফেরার ছক কষছেন নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা!

দেশে ফেরার ছক কষছেন নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা!

মোরনিউজ ডেস্ক
মোরনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৮ ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ও পলাতক আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিদেশে অবস্থান করেই দেশে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে ভারতের কলকাতা ও দিল্লিকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতাদের গোপন বৈঠক ও সাংগঠনিক তৎপরতা চলমান রয়েছে।

প্রায় ১৬ মাস আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। বিক্ষোভকারীরা তার সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে নাটকীয়ভাবে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগ করেন তিনি। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় সরকারের দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারী নিহত হন।

গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে পালান। ক্ষমতায় থাকাকালে সংঘটিত নানা অপরাধের অভিযোগ, জনরোষ এবং ক্রমবর্ধমান ফৌজদারি মামলার মুখে পড়ে তারা আত্মগোপনে যান। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ৬০০ জনের বেশি নেতা বর্তমানে ভারতের সীমান্তঘেঁষা শহর কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন।

গত বছরের মে মাসে জনচাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে। হত্যা ও দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার চলমান থাকায় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায়ে বলা হয়, তার শাসনামলের শেষ পর্যায়ে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা এ রায়কে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভারত থেকেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা একটি গোপন আশ্রয় থেকে শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনালাপ ও ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, তিনি প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত রাজনৈতিক যোগাযোগে সক্রিয় থাকেন। এসব তৎপরতা ভারত সরকারের নজরদারির মধ্যেই চলছে, যদিও বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধ এখনো উপেক্ষিত।

গত এক বছরে কলকাতা থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের দিল্লিতে ডেকে এনে দলীয় কৌশল নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও অংশ নেন বলে জানা গেছে।

সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে থাকা তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছে এবং সাদ্দামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে—যা তিনি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন হবে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় এর গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, নির্যাতন, গণমাধ্যম দমন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। ফলে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর দলটির হঠাৎ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ গার্ডিয়ান

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/