• রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোম পুড়লে আমরা নিরো হয়ে বাঁশি বাজাবো না: জামায়াত আমির

রোম পুড়লে আমরা নিরো হয়ে বাঁশি বাজাবো না: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩৯ ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংকটের মুহূর্তে তাদের দল নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না; বরং সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, “রোম পুড়লে নিরো হয়ে বাঁশি বাজানোর মতো অবস্থান আমাদের নয়—সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত শিশু হাসপাতাল-এ হাম আক্রান্ত রোগীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধা আছে কি না—সংসদে এমন প্রশ্ন তোলা হলে সরকারি পক্ষ থেকে ইতিবাচক উত্তর দেওয়া হয়। তবে একজন চিকিৎসক হিসেবে তার অভিজ্ঞতায় বাস্তবে অধিকাংশ স্থানে কার্যকর আইসিইউ সুবিধার অভাব রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আইসিইউ পরিচালনায় প্রশিক্ষিত ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হলেও সে ধরনের জনবল ও কাঠামো যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি।

স্বাস্থ্যখাতকে “সংকটাপন্ন” উল্লেখ করে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদাহরণ তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১ হাজার শয্যার বিপরীতে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ রোগী ভর্তি রয়েছেন এবং প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৪ হাজার মানুষ। কিন্তু সেই অনুপাতে জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নেই, ফলে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সুশিক্ষা একটি জ্ঞানভিত্তিক জাতি গঠনে সহায়ক এবং উন্নত জনস্বাস্থ্য একটি সুস্থ-সবল জাতি নিশ্চিত করে। জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম আংশিক স্থগিত রেখে সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।

সরকারের বক্তব্য ও সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সংসদে সরকারি দলের বক্তব্যে দেশের সমস্যা ততটা প্রতিফলিত না হলেও সাধারণ মানুষের কাছে গেলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় একটি তেলের পাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন রাখা হচ্ছে এবং পাম্পগুলো চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পাচ্ছে, যার ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জাতির সামনে স্বচ্ছ তথ্য উপস্থাপন করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক মানুষ জ্বালানি পাচ্ছেন না—এই ভোগান্তি লাঘবে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/