• শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ | ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুরে কলেজে হামলা ও শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটানো: বিএনপি নেতা আকবর আলী বহিষ্কার

দুর্গাপুরে কলেজে হামলা ও শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটানো: বিএনপি নেতা আকবর আলী বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:২৩ ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হামলা, ভাঙচুর ও এক নারী শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে মারধরের ঘটনায় জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে আকবর আলীকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর আলী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তার দাবি, এলাকার কিছু মুরব্বি দাওয়াতপত্র নিয়ে কলেজে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ মোতায়েন ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে তারা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায় এবং অফিসকক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর করে।

হামলায় আহত হন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও কয়েকজন। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারধর করা হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আহত শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, আকবর আলীর নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী এ হামলায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারাও ছিলেন।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি কাউকে না চিনে সেই দাবি মেনে না নেওয়ায় এ ঘটনার সূত্রপাত।

প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “চাঁদার দাবিতে প্রায়ই কলেজে এসে চাপ সৃষ্টি করতেন কিছু লোক। অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়ানোই আমার অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।”

তবে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার দাবি, কলেজে পূর্বের অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, প্রথমে শিক্ষকদের পক্ষ থেকেই হামলা করা হয়েছিল, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/