• মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জীবনাবসান

শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জীবনাবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:৪৯ ১০ অক্টোবর ২০২৫

বাংলা সাহিত্য ও শিক্ষাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

পরিবার ও সহকর্মী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সঙ্গে থাকা চালক দ্রুত তাঁকে কাছাকাছি এক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল এবং দ্রুত হৃদযন্ত্রে স্টেন্টিং (রিং) করা হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও পরবর্তীতে আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অবশেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ শুক্রবার রাতে তাঁর মরদেহ রাখা হবে বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে। আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জাতীয় কবিতা পরিষদের ব্যানারে নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলির আয়োজন করা হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শুধু একজন শিক্ষাবিদই ছিলেন না, তিনি সমকালীন বাংলার সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী লেখক ও সমালোচক। তাঁর সাহিত্যকর্মে সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর বিশ্লেষণ প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থী ও পাঠকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। তাঁর বিদায়ে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
 

বিজ্ঞাপন