• বুধবার , ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলের জীবন বাঁচাতে,কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত বাবার!

ছেলের জীবন বাঁচাতে,কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত বাবার!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪৫ ১১ অক্টোবর ২০২৫

ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন এক অসহায় বাবা। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নীলফামারী সদর উপজেলার চড়চড়াবাড়ি এলাকার পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাফিউজ্জামান রাসিকের বাবার এমন ঘোষণা ছুঁয়ে গেছে বহু মানুষের হৃদয়।

রাফিউজ্জামান রাসিক দীর্ঘদিন ধরে এপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, এক ধরনের বিরল রক্তজনিত রোগে ভুগছে। ২০২০ সালে তার শরীরে এই রোগ ধরা পড়ে। এরপর থেকে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা চালাতে চালাতে সর্বস্ব হারিয়েছেন বাবা মনিরুজ্জামান লিটন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাসিককে বাঁচাতে হলে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। আর এই চিকিৎসার খরচ প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকা।

মনিরুজ্জামান লিটন বলেন, “২০২০ সাল থেকে আমি আমার ছেলের জন্য লড়ছি। আমার সব সঞ্চয়, সম্পদ শেষ হয়ে গেছে। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও যা পাওয়ার পেয়েছি। এখন শুধু আমার বাড়িটা আছে। আমি চাই আমার ছেলেটা বাঁচুক। প্রয়োজনে আমার একটি কিডনি বিক্রি করব, শুধু আমার ছেলেকে যেন বাঁচানো যায়।”

সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে লিখেছেন— “আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য আমি আমার কিডনি বিক্রি করতে চাই। দয়া করে কেউ সাহায্য করুন।”

এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, কেউ কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

মনিরুজ্জামান জানান, “রাসিকের চিকিৎসায় এখন প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়, মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন। এই টাকা যোগাড় করাই এখন আমার কাছে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমি আর পারছি না, তবু হাল ছাড়ব না।”

অন্যদিকে ছোট্ট রাসিক জানায়, “আমার বাবা আমার জন্য সব কিছু শেষ করে দিয়েছেন। আমি সুস্থ হয়ে ডাক্তার হতে চাই। দরিদ্র মানুষদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিতে চাই, কারণ আমি জানি কষ্টটা কেমন।”

রাসিকের দুর্বল শরীর, মুখে মলিন হাসি, আর বাবার চোখে অসহায় প্রত্যয়—এই দৃশ্য যেন দেশের অসংখ্য মানুষের বিবেক নাড়া দিয়েছে।

বর্তমানে রাফিউজ্জামান রাসিক রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট না হলে তার অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

অনেকেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাসিকের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন।

বাংলাদেশে প্রতিদিনই অসংখ্য পরিবার অসুস্থ সন্তানকে বাঁচাতে লড়াই করছে, কিন্তু মনিরুজ্জামান লিটনের এই সংগ্রাম সমাজের এক নির্মম বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে—যেখানে এক বাবা সন্তানের জীবনের বিনিময়ে নিজের অঙ্গ বিক্রির ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন