• বুধবার , ২৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে ২০০ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল পুড়ে ছাই!

কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে ২০০ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল পুড়ে ছাই!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:১৮ ২০ অক্টোবর ২০২৫

 

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০০ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতি। এতে দেশের ওষুধ উৎপাদন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংবাদ সম্মেলনে জাকির হোসেন জানান, বর্তমানে দেশে ৩০৭টি ওষুধ কোম্পানি আছে, যার মধ্যে ২৫০টি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সকাল ১১টা পর্যন্ত শীর্ষ ৩২টি কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের ২০০ কোটি টাকার বেশি ওষুধের কাঁচামাল আগুনে পুড়ে গেছে। বাকি কোম্পানিগুলোর হিসাব এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি। একটি ওষুধ উৎপাদনে সাধারণত ১০ থেকে ৫৩টি উপকরণ লাগে। ফলে ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়বে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাকির হোসেন।

তিনি আরও জানান, আগুন লাগার সময় বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী বিমান চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। সেই বিমানে থাকা ওষুধের কাঁচামালও ঝুঁকিতে আছে। ওষুধের কাঁচামাল সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রামে সেই সুবিধা না থাকায় ওই কাঁচামালগুলোর মান নিয়েও শঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কার্গো ভিলেজের আগুনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কার্গো ভিলেজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নি শনাক্ত ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে। এমন অব্যবস্থাপনা জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের সেই অংশে আগুন লাগে যেখানে আমদানি করা পণ্য সামগ্রী মজুত রাখা হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের ভয়াবহতায় বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়, যার প্রভাব দেশের ওষুধ শিল্পে গভীরভাবে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওষুধশিল্প সমিতি ও ইএবি উভয় সংগঠনই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
 

বিজ্ঞাপন