• বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদির শেষ বিদায় জন্মভূমিতে না পাওয়ায় মর্মাহত ঝালকাঠিবাসী

হাদির শেষ বিদায় জন্মভূমিতে না পাওয়ায় মর্মাহত ঝালকাঠিবাসী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৫৮ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তরুণ সমাজকর্মী শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রিয় সন্তানকে শেষবারের মতো নিজ জন্মভূমিতে এক নজর দেখার সুযোগ না পাওয়ায় গভীর শোক ও বেদনায় ভেঙে পড়েছে ঝালকাঠির নলছিটির মানুষ।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শহীদ হাদির দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে দুপুর ২টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ অংশ নেন। হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে জানাজা আদায় করা হয়।

কিন্তু হাদির মরদেহ জন্মস্থান নলছিটিতে না নেওয়ায় সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন,
“হাদি আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। খুব ভালো মানুষ ছিল। তার জানাজা নলছিটিতে হলে আমরা শেষ বিদায়ে শরিক হতে পারতাম। এ বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”

তিনি আরও বলেন,
“সরকার তার চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, সিঙ্গাপুরেও পাঠিয়েছে। কিন্তু মরদেহটি অন্তত নলছিটিতে এনে জানাজা দিয়ে পরে ঢাকায় দাফন করা যেত। তাহলে আমরা সারাজীবন গর্ব করে তাকে স্মরণ করতে পারতাম।”

আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন,
“হাদির শৈশব, বেড়ে ওঠা—সবই এই মাটিতে। তাই শেষ বিদায়ও এখানেই প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু সে সৌভাগ্য হলো না। আমরা চাই, এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার হোক। ভালো মানুষ খুন হয়ে যাবে, আর খারাপ মানুষ পালিয়ে যাবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

স্থানীয় তরুণ আলভী জানান,
“হাদি ভাই আমাদের নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজের পরিকল্পনা করতেন। এলাকায় এলে আমাদের সঙ্গে বসতেন, কর্মশালায় যুক্ত করতেন। তার জানাজা নলছিটিতে না হওয়ায় আমরা ভীষণভাবে মর্মাহত।”

হাদির স্মরণে শনিবার নলছিটি শহরে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। নলছিটি উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য শাহাদাত আলম ফকির বলেন,
“ওসমান হাদি নলছিটির গর্ব। আমরা তাকে হারিয়ে শোকাহত। তার মতো সাহসী ও মানবিক মানুষ খুব কমই জন্মায়। তার মরদেহ নিজ জন্মভূমিতে না আনতে পারায় আমরা প্রতীকীভাবে শহরের সব দোকান বন্ধ রেখেছি।”

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

শোকের এই মুহূর্তে হাদির জন্মভূমি নলছিটির মানুষ একটাই দাবি জানাচ্ছে—এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/