হাদির শেষ বিদায় জন্মভূমিতে না পাওয়ায় মর্মাহত ঝালকাঠিবাসী


প্রকাশিত: ০৬:৫৮ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তরুণ সমাজকর্মী শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রিয় সন্তানকে শেষবারের মতো নিজ জন্মভূমিতে এক নজর দেখার সুযোগ না পাওয়ায় গভীর শোক ও বেদনায় ভেঙে পড়েছে ঝালকাঠির নলছিটির মানুষ।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শহীদ হাদির দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে দুপুর ২টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ অংশ নেন। হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে জানাজা আদায় করা হয়।
কিন্তু হাদির মরদেহ জন্মস্থান নলছিটিতে না নেওয়ায় সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন,
“হাদি আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। খুব ভালো মানুষ ছিল। তার জানাজা নলছিটিতে হলে আমরা শেষ বিদায়ে শরিক হতে পারতাম। এ বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন,
“সরকার তার চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, সিঙ্গাপুরেও পাঠিয়েছে। কিন্তু মরদেহটি অন্তত নলছিটিতে এনে জানাজা দিয়ে পরে ঢাকায় দাফন করা যেত। তাহলে আমরা সারাজীবন গর্ব করে তাকে স্মরণ করতে পারতাম।”
আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন,
“হাদির শৈশব, বেড়ে ওঠা—সবই এই মাটিতে। তাই শেষ বিদায়ও এখানেই প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু সে সৌভাগ্য হলো না। আমরা চাই, এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার হোক। ভালো মানুষ খুন হয়ে যাবে, আর খারাপ মানুষ পালিয়ে যাবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
স্থানীয় তরুণ আলভী জানান,
“হাদি ভাই আমাদের নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজের পরিকল্পনা করতেন। এলাকায় এলে আমাদের সঙ্গে বসতেন, কর্মশালায় যুক্ত করতেন। তার জানাজা নলছিটিতে না হওয়ায় আমরা ভীষণভাবে মর্মাহত।”
হাদির স্মরণে শনিবার নলছিটি শহরে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। নলছিটি উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য শাহাদাত আলম ফকির বলেন,
“ওসমান হাদি নলছিটির গর্ব। আমরা তাকে হারিয়ে শোকাহত। তার মতো সাহসী ও মানবিক মানুষ খুব কমই জন্মায়। তার মরদেহ নিজ জন্মভূমিতে না আনতে পারায় আমরা প্রতীকীভাবে শহরের সব দোকান বন্ধ রেখেছি।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।
শোকের এই মুহূর্তে হাদির জন্মভূমি নলছিটির মানুষ একটাই দাবি জানাচ্ছে—এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - দেশজুড়ে
- প্রধানমন্ত্রী পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি: ডা. মুরাদকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
- ভক্তরা আমাকে সিঙ্গেল দেখতে চায়, কোনো পুরুষের পাশে নয়: পরীমণি
- হেরে যাওয়া নেতাদেরই জেলার ‘মাথা’ বানাচ্ছে বিএনপি: রুমিন ফারহানা
- নতুন ব্রাজিল গড়তে তরুণদের ওপর আস্থাশীল কার্লো আনচেলত্তি
- গাজায় সামরিক অভিযানের মুখে ইসরায়েলে বিপুল অস্ত্র সরবরাহ ভারতের: অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন
- ভোল পাল্টে সবাই এখন ‘জুলাইযোদ্ধা’: মির্জা ফখরুল
- শাকিবের সঙ্গে রোমান্স স্বস্তিদায়ক ছিল: সাবিলা নূর
- বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই: উয়েফা
- শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- এআই দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বিকৃত ছবি প্রচার: পঞ্চগড়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিবাদ
- দৃষ্টিহীন তরুণের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল ‘অ্যাশেজ’
- কেপ ভার্দের জয় নিয়ে সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী, মেসির হার দেখছেন তিমুর লিসতের প্রেসিডেন্ট
- ভোট গণনায় অনিয়ম হলে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি সারজিস আলমের
- জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা
- সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাসে বিশ্বকাপ জয়ের নিকটে ফ্রান্স
- আজ থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’, এক কোডেই সব ডিজিটাল পেমেন্ট
- বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ে মার্কিন কর্মকর্তার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
- কর্ণফুলীতে ফিশিং ভেসেলে বিস্ফোরণ, ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই নাবিকের মৃত্যু
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক সংকট বাড়তে পারে: গোলাম পরওয়ার
- আল আকসায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশ নিয়ে নতুন উত্তেজনা




