• মঙ্গলবার , ২১ জুলাই, ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রমের অভিযোগ, ২ আসামির স্বীকারোক্তি

মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রমের অভিযোগ, ২ আসামির স্বীকারোক্তি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩৪ ২০ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কথিত মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত শাহ আমানত সাবির এবং মো. তাহসীন ইসলাম আদালতে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে রিমান্ড শেষে বাকি পাঁচ আসামিকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলমের আদালতে মো. তাহসীন ইসলাম জবানবন্দি দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে একই ধারায় বক্তব্য দেন শাহ আমানত সাবির।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তা এসআই মহিন উদ্দীন জানান, মামলায় গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে দুইজন আদালতে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। রিমান্ড শেষে মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান ও মো. বায়োজিতকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীতে অভিযান

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামে একটি ব্যানারে পরিচালিত মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের দাবি, ওই প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা এবং সদস্য সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযানের সময় প্রথমে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতান ওরফে মুসান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে ১৬ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

অনলাইন যোগাযোগের অভিযোগ

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, ‘সাবির ভাইয়ের জামাত’ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের যোগাযোগ ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ ব্যবহার করে মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে সদস্য সংগ্রহ করা হতো।

পুলিশ আরও দাবি করেছে, সদস্যরা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছদ্মনামে যোগাযোগ করতেন।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এখন মামলাটি আরও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে এটিইউ। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আসামিপক্ষের বক্তব্য

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের মক্কেলরা নির্দোষ। তাদের দাবি, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো, এর সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আসামিদের কাছ থেকে সংগঠনের কার্যক্রম, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন ছিল। আদালত শুনানি শেষে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি ও সদস্য সংগ্রহের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন