• বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট, ২০২৬ | ১২ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির

মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪৫ ২৭ আগস্ট ২০২৬

মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণভাবে দেশের নিজস্ব বিষয়। জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে অন্য কারও অস্বস্তিতে ভোগার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে এ নিয়ে অন্য কারও অস্বস্তিতে ভোগার প্রয়োজন নেই।

তার এই বক্তব্যের পর মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কী

সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মক্কায় স্বাক্ষরিত হওয়ায় এটি মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ সহযোগিতায় এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতির কাঠামোর মধ্যে থাকবে।

বাংলাদেশকে ঘিরে আলোচনা কেন

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হতে পারে—এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মত উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও চুক্তিটির বিষয়ে আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। ফলে মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এখন আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

কী আছে মক্কা চুক্তিতে

চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। কোনো একটি দেশ সামরিক আক্রমণের মুখে পড়লে অন্য সদস্য দেশগুলো তার পাশে দাঁড়াবে—এমন নীতির ওপর চুক্তিটির কাঠামো তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি তিন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিও চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে।

আগে থেকেই চলছিল আলোচনা

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের আগে থেকেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছিল।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ সৌদি আরবের রিয়াদে ইসলামি সম্মেলনের সময় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ৭ আগস্ট মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো প্রতিরক্ষা বা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে এর সম্ভাব্য প্রভাব দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাও আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে কোনো জোট বা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের তাৎপর্য

মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখন জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বিষয়টিকে বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।

এখন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেবে কি না, সেটিই আলোচনার মূল বিষয়।

বিজ্ঞাপন