মে মাসে ঘুরে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি


প্রকাশিত: ০৪:১৮ ১২ জুলাই ২০২৬
বছরের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে নিম্নমুখী ধারা ছিল, মে মাসে তা কিছুটা বদলেছে। মাসটিতে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে ৫৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় প্রায় ৮ শতাংশ কম। তবে মে মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি সামনের মাসগুলোতে বাজার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে। জানুয়ারি-মে সময়ে দেশটির মোট পোশাক আমদানির মূল্য ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য সামান্য বেড়েছে।
বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হওয়া, ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে এ চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারের ওঠানামা দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি মূল্য ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে। ভারতের রপ্তানি মূল্যও ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে কম্বোডিয়া তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি আয় ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা প্রচলিত উৎসের বাইরে নতুন উৎপাদনকারী দেশ থেকেও পোশাক সংগ্রহ বাড়াচ্ছেন।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বিশ্ববাজারে দুর্বল চাহিদা ও পণ্যের দামের ওপর চাপ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় বাধা হয়ে আছে। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ লিড টাইম এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য পরিবহন এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
মে মাসের প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হলেও এক মাসের ফল দিয়ে পুরো বছরের চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আগামী কয়েক মাসে রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই এখন পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - অর্থ ও বাণিজ্য
- সংসদে অগ্নিঝরা কণ্ঠস্বর আশরাফ উদ্দিন নিজান
- খাটের বক্সে ৯০ হাজার ইয়াবা, ৩৫ লাখ টাকা উদ্ধার
- প্রথম দিনে টাকা ফেরত পেলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ হাজার গ্রাহক
- বিগ ব্যাশে খেলতে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়লেন চ্যাপম্যান
- নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার মানহানির মামলা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রাশিয়ার
- জাতিসংঘ অধিবেশনে আজ সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান
- প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাতের জামিন নামঞ্জুর
- ‘তিন নাম্বার জন ডান’, পরীমণির কোলে নবজাতক, রহস্য কী?
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা, জরুরি প্রয়োজনে মিলছে আগাম সুবিধা
- নাসিরুদ্দিন শাহকে ‘শিয়াল’ বলে কঙ্গনা রানাওয়াতের কটাক্ষ
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- প্রতিপক্ষের বাড়িতে অস্ত্র রেখে পুলিশকে ফোন, নিজেই ফাঁসলেন যুবক
- রুহুল কবীর রিজভী কে? শিক্ষা, রাজনৈতিক জীবন ও বর্তমান দায়িত্ব
- গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হতেন: জামায়াত
- কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি
- রোনালদো এখন আর্জেন্টিনার জামাই!
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে
- সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিবার পাবে বিশেষ অনুদান




