• সোমবার , ১৩ জুলাই, ২০২৬ | ২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মে মাসে ঘুরে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

মে মাসে ঘুরে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:১৮ ১২ জুলাই ২০২৬

বছরের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে নিম্নমুখী ধারা ছিল, মে মাসে তা কিছুটা বদলেছে। মাসটিতে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে ৫৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় প্রায় ৮ শতাংশ কম। তবে মে মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি সামনের মাসগুলোতে বাজার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে। জানুয়ারি-মে সময়ে দেশটির মোট পোশাক আমদানির মূল্য ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য সামান্য বেড়েছে।

বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হওয়া, ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে এ চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারের ওঠানামা দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি মূল্য ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে। ভারতের রপ্তানি মূল্যও ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে কম্বোডিয়া তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি আয় ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা প্রচলিত উৎসের বাইরে নতুন উৎপাদনকারী দেশ থেকেও পোশাক সংগ্রহ বাড়াচ্ছেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বিশ্ববাজারে দুর্বল চাহিদা ও পণ্যের দামের ওপর চাপ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় বাধা হয়ে আছে। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ লিড টাইম এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য পরিবহন এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

মে মাসের প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হলেও এক মাসের ফল দিয়ে পুরো বছরের চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আগামী কয়েক মাসে রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই এখন পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিজ্ঞাপন