• সোমবার , ১৩ জুলাই, ২০২৬ | ২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ উত্তেজনার মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় হামলা, লক্ষ্যবস্তু ১৪০ সামরিক স্থাপনা

হরমুজ উত্তেজনার মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় হামলা, লক্ষ্যবস্তু ১৪০ সামরিক স্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:২১ ১২ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় দফা সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। আগের দুই দফার তুলনায় এবারের অভিযান অনেক বড় ছিল বলেও জানিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবে নতুন অভিযান পরিচালনা করা হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলেছে, জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের দাবি, নির্দেশ অমান্য করে অনুমোদনহীন পথে চলায় জাহাজটিকে সতর্কতামূলকভাবে লক্ষ্য করা হয়েছিল।

সেন্টকম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্র, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার, যোগাযোগব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত তিন রাতের অভিযানে ইরানের ৩০০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির কয়েকটি বন্দরনগরী ও দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, মার্কিন সহায়তায় বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল এখনো অব্যাহত রয়েছে। দুই পক্ষের এই বিপরীত দাবির কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে পরিবহন করা তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘ হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্য পরিবহনে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানও কুয়েত, কাতার, জর্ডান, ওমানসহ কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার দাবি করেছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স/ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বিজ্ঞাপন