• মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম দিনে টাকা ফেরত পেলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ হাজার গ্রাহক

প্রথম দিনে টাকা ফেরত পেলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ হাজার গ্রাহক

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৪ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ৬ হাজার গ্রাহককে মোট ২৫০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে ব্যাংকটি।

টাকা ফেরতের পাশাপাশি একই দিন থেকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর সেবাও চালু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।

আবেদনকারীদের টাকা ফেরত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, টাকা ফেরতের জন্য ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমানতকারীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে যারা সোমবার নিজ নিজ শাখায় টাকা তুলতে গেছেন, তাদের নিয়ম অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার জানান, আবেদন করা সব গ্রাহকের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে সবাই টাকা তুলতে ব্যাংকে আসেননি। অনেক গ্রাহক তাদের অর্থ আপাতত ব্যাংকেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ কেউ টাকা উত্তোলনের পর আবার সেই অর্থ ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

৭৪ হাজার গ্রাহকের আবেদন

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৭৪ হাজার আমানতকারী টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেন। এসব আবেদনে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

গ্রাহকেরা টাকা তুলতে গিয়ে যাতে অর্থসংকটে না পড়েন, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক শাখাগুলোতে অর্থ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শাখায় গ্রাহকদের ভিড়

রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বনানী ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার শাখায় সোমবার সকাল থেকেই টাকা তুলতে গ্রাহকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের স্বাগত জানানো হয় এবং আবেদন যাচাই করে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

একীভূত হওয়া ইউনিয়ন ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক এ বি এম মোকাররম মাহমুদ জানান, প্রথম দিনে আটজন গ্রাহক টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। তাদের মধ্যে চারজন অর্থ তুলে নিয়েছেন। অন্য আবেদনকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব গ্রাহকের হিসাবে মুনাফার অর্থ জমা রয়েছে, তারাও তা উত্তোলন করতে পারছেন।

পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাঁচ ব্যাংকের শাখাগুলো এখনো পৃথকভাবে পরিচালিত হলেও এগুলো নতুন ব্যাংকের অধীনে রয়েছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের মোট শাখা ৭৬১টি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংকটে থাকা শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

ঋণ অনিয়মের অভিযোগে বড় সংকট

একীভূত হওয়ার আগে পাঁচ ব্যাংকের কয়েকটিতে বড় ধরনের ঋণ অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের সম্পৃক্ততা ছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন আর্থিক নিরীক্ষায় ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এসব সংকটের কারণে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফেরার চেষ্টা

বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানত ফেরতের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা ও তদারকিতে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহককে ২৫০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যাংকটির আমানত ফেরত কার্যক্রমে একটি বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন