• মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট, ২০২৬ | ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৭ ১১ আগস্ট ২০২৬

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে নেমেছেন জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে ছিল এর উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৩ কিলোমিটার।

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল ও আশপাশের শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পেরেইরায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ভবনে মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পেরেইরা মহানগর এলাকাতেই অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও ধুলায় আচ্ছন্ন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

শহরের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

কালি ও অন্যান্য শহরেও ক্ষতি

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কালি শহরেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

মানিজালেস শহরে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ইট ও প্লাস্টার খসে পড়েছে।

এ ছাড়া কুইবদো, মেডেলিন, চোকো ও ভায়ে দেল কাওকা অঞ্চলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বোগোটাতেও কম্পন অনুভূত

রাজধানী বোগোটাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। সেখানে গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল দুলতে দেখা গেছে। কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিলেও রাজধানীতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের প্রভাবে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।

জরুরি অবস্থা, চলছে উদ্ধার অভিযান

ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। এতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবেও সহায়তার প্রস্তাব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্ধার ও পরিস্থিতি মূল্যায়নে কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।

প্রায় ১৫ লাখ মানুষ কম্পন অনুভব করেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ভূমিকম্পটির শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল মাটির অনেক গভীরে। সাধারণত গভীর ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় কম ক্ষতিকর হতে পারে। তবে কম্পনের শক্তি বেশি হলে গভীরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পও ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

বিজ্ঞাপন