• সোমবার , ১১ মে, ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘আর কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে শত্রুপক্ষ’

পাকিস্তানের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘আর কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে শত্রুপক্ষ’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:২৭ ১১ মে ২০২৬

ভারতের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের “দুঃসাহসিক পদক্ষেপ” নেওয়া হলে শত্রুপক্ষকে অত্যন্ত বিস্তৃত, বিপজ্জনক এবং বেদনাদায়ক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

রোববার রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদরদপ্তর জিএইচকিউতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।

আসিম মুনির দাবি করেন, গত বছরের সংঘাতে পাকিস্তান শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক ও তথ্যযুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা করলেও ৬ থেকে ১০ মে পর্যন্ত সংঘাতে তাদের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার এই সংঘাতকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলার পর শুরু হওয়া উত্তেজনা পরে পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’-এ রূপ নেয় এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

নিজের বক্তব্যে ভারতের বিরুদ্ধে “ভিত্তিহীন অভিযোগ” ও “যুদ্ধোন্মাদনা” ছড়িয়ে অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন পাকিস্তান সেনাপ্রধান। তিনি দাবি করেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের কৌশল অনুসরণ করছে, তবে প্রতিবারই পাকিস্তান সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

আসিম মুনির আরও বলেন, অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশলকে উন্মোচন করে দিয়েছে। তার মতে, ভারত সামরিক আগ্রাসন ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে আঞ্চলিক ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে নিতে চাইলেও বাস্তবে তাদের সামর্থ্য উচ্চাকাঙ্ক্ষার তুলনায় অনেক কম।

যুদ্ধে নিহত সেনা সদস্যদের স্মরণ করে পাকিস্তান সেনাপ্রধান বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগই দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্যই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা সংকটকালে “লোহার দেয়াল”-এর মতো কাজ করেছে।

সামরিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান নৌবাহিনী ভারতীয় যুদ্ধজাহাজগুলোকে উপকূল থেকে বহু দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং বিমানবাহিনী আধুনিক আকাশযুদ্ধে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/