• রবিবার , ৩১ মে, ২০২৬ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত সেনা; ক্ষতিগ্রস্ত ২ রিপার ড্রোন

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত সেনা; ক্ষতিগ্রস্ত ২ রিপার ড্রোন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১৫ ৩১ মে ২০২৬

কুয়েতের একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় মার্কিন সেনাসদস্য ও বেসামরিক ঠিকাদারসহ প্রায় পাঁচজন সামান্য আহত হন। হামলায় প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং অন্যটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটির ভেতরে গিয়ে পড়লে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছিল, ইরান কুয়েতের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই মার্কিন ঘাঁটিটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের দাবি, এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি মার্কিন সামরিক অভিযানে ওই ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল। আইআরজিসি আরও বলে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনের আশপাশে সংঘটিত সামরিক তৎপরতার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে জানায়, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপায়।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক তৎপরতা দেখা যায়। পরবর্তীতে ওমানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/