• সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া

দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২২ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তর কোরিয়া একটি নতুন দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রোসি বিষয়টিকে গভীর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছেন।

নতুন ভবনটি উত্তর কোরিয়ার প্রধান ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সের অংশ। সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড স্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অবকাঠামোর বিস্তার অব্যাহত রেখেছে। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বহিষ্কার করার পর থেকে আইএইএ মূলত স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এক বিবৃতিতে বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির এই সম্প্রসারণ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর আগে গত ৩ জুন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন নবনির্মিত এই পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশংসা করেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো ইয়ংবিয়নের বাইরে ক্যাংসনের মতো আরও গোপন কেন্দ্র থাকার সম্ভাবনা। এসব স্থাপনা শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।

ক্যাংসন কেন্দ্রে গত বছরের শুরুতে একটি নতুন ভবন নির্মাণের পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরুর লক্ষণ দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। ২০২২ সালের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেশটির এ খাতে বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৬৪ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

২০১৭ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটি ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। পরে ২০২২ সালে নিজেদের পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে পিয়ংইয়ং।

চলতি বছরের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াং যুদ্ধ অবসানে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি বছরে ১৫ থেকে ২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড উৎপাদন বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে চুক্তির পক্ষে মত দেন তিনি। তবে উত্তর কোরিয়া এখনো ওই প্রস্তাবের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

বিজ্ঞাপন