• রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ১০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যারিয়ার, বিয়ে ও সন্তান নিয়ে বিশের শেষ দিকে এত মানসিক চাপ কেন?

ক্যারিয়ার, বিয়ে ও সন্তান নিয়ে বিশের শেষ দিকে এত মানসিক চাপ কেন?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩৬ ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বয়স ত্রিশের কাছাকাছি পৌঁছাতেই অনেকের জীবনে বাড়তে থাকে অদৃশ্য মানসিক চাপ। ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, বিয়ে করা, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা সন্তান নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একসঙ্গে সামনে আসে। ফলে বিশের কোঠার শেষ বছরগুলো অনেকের কাছেই উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সময় হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চাপের বড় কারণ সামাজিক প্রত্যাশা এবং অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা। নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে সবকিছু অর্জন করতে হবে—এমন ধারণা অনেক তরুণ-তরুণীকে মানসিকভাবে অস্থির করে তোলে।

অ্যাস্টার হোয়াইটল্যান্ডের মনোবিজ্ঞানী দিব্যাজি এবং নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটির বিশেষজ্ঞ ডা. কেয়া পরাশর জৈন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

অন্যের সাফল্য দেখেই কি বাড়ছে চাপ?

বিশের কোঠার শেষ দিকে অনেকেই দেখতে পান, সমবয়সী বন্ধুরা কেউ বিয়ে করছেন, কেউ ভালো চাকরি পাচ্ছেন, আবার কেউ বাড়ি কিনছেন কিংবা সংসার শুরু করছেন। এসব দেখে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশা তৈরি হতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী দিব্যাজির মতে, মানুষ প্রায়ই অন্যের দৃশ্যমান অর্জনের সঙ্গে নিজের অনিশ্চয়তাকে তুলনা করে। কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনের সংগ্রাম, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি কিংবা সিদ্ধান্তগুলো বিবেচনায় নেয় না।

শুধু পিছিয়ে পড়ার ভয় নয়, ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া বা সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও এই বয়সে উদ্বেগ বাড়ায়। অনেকেই পছন্দের পেশা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। আবার সামাজিক চাপে প্রস্তুত না হয়েও বিয়ে বা সম্পর্কে জড়ানোর কথা ভাবেন।

বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বয়স নিয়ে উদ্বেগ কেন?

ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি বিয়ে ও মাতৃত্বের পরিকল্পনা অনেক নারীর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ যুক্ত হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রজনন বিশেষজ্ঞ ডা. কেয়া পরাশর জৈন জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান সাধারণত কমতে থাকে। ত্রিশের দশকে এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয় এবং মধ্য ত্রিশের পর হ্রাসের গতি বাড়তে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যেই সবাইকে মা হতে হবে কিংবা ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণ অসম্ভব। প্রজননক্ষমতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

যারা ভবিষ্যতে সন্তান নিতে চান, কিন্তু বর্তমানে প্রস্তুত নন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা এগ ফ্রিজিংয়ের মতো বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন। তবে এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানের নিশ্চয়তা দেয় না। ডিম্বাণু সংরক্ষণের সময় বয়সসহ বিভিন্ন বিষয় এর সফলতায় প্রভাব ফেলে।

মানসিক চাপ কমাতে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের চাওয়া ও সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে।

কেউ ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন, কেউ সংসার শুরু করতে চাইতে পারেন। আবার কেউ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পর বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সবার জীবন একই গতিতে এগোবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।

মনোবিজ্ঞানী দিব্যাজির মতে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের সমালোচনার ভয় নয়, নিজের মূল্যবোধ ও মানসিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

চাপ সামলাতে অন্যের সঙ্গে তুলনা কমানো, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পরিবারের সঙ্গে নিজের অবস্থান খোলামেলাভাবে আলোচনা করা সহায়ক হতে পারে। একসঙ্গে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে একটি করে বিষয়ে মনোযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে উদ্বেগ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এবং ঘুম, কাজ, সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেললে মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, বিশের কোঠার শেষ সময়টা সব লক্ষ্য পূরণের শেষ সুযোগ নয়। বরং নিজেকে বোঝা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।

বিজ্ঞাপন